খালিয়াজুরী উপজেলা-এর হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম সামনে এলেও ‘কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার’ সংকটে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। বৈশাখের শুরুতেই পুরোদমে ধান কাটা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পর্যাপ্ত যন্ত্র না থাকায় সময়মতো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে আবহাওয়া পূর্বাভাসে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে উজানে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা জানানো হয়েছে। এতে হাওরের নিচু এলাকা দ্রুত প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে অকাল বন্যার আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। এই বিশাল পরিমাণ ধান কাটতে অন্তত ২০০টি সচল হার্ভেস্টার প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাঠে রয়েছে তার প্রায় অর্ধেক। সরকারি ভর্তুকিতে ১৪৯টি মেশিন দেওয়া হলেও এর মধ্যে মাত্র ৮৬টি সচল রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ভর্তুকিতে পাওয়া অনেক মেশিন প্রভাবশালীরা কম দামে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে সাধারণ চাষিরা ২০১৭ ও ২০২২ সালের মতো বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কায় রয়েছেন।
অন্যদিকে মেশিন মালিকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়কে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, সরবরাহ করা হার্ভেস্টারগুলোর মান তুলনামূলক দুর্বল এবং হাওরের কাদা ও প্রতিকূল পরিবেশে দ্রুত বিকল হয়ে যায়। খুচরা যন্ত্রাংশের অভাব ও মেরামত খরচ বেশি হওয়ায় অনেকেই মেশিন চালু রাখতে পারছেন না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ঘাটতি পূরণে পাশের উপজেলা থেকে হার্ভেস্টার আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ধনু নদ তীরবর্তী প্রায় ১৪ হেক্টর জমির ফসল ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ, যা কৃষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম জানিয়েছেন, ভর্তুকির মেশিন কেউ নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি বা সরিয়ে নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের ফসল রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।

