দিনাজপুর প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী ও দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদগা ময়দান—গোড় এ শহীদ বড় ময়দানে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতি বছরের মতো এবারও এখানে অনুষ্ঠিত হবে জেলার প্রধান ঈদের জামাত। আর সেই জামাতকে ঘিরে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক কমিটি।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শতাধিক শ্রমিক নিরলস পরিশ্রম করে মাঠ প্রস্তুতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ চুন দিয়ে নামাজের কাতারের লাইন টানছেন, কেউ মেশিনের সাহায্যে মাঠ সমান করছেন। আবার কেউ প্রবেশপথে গেট নির্মাণে ব্যস্ত, কেউবা মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করছেন।
ইতোমধ্যে ঈদগাহ মাঠের প্রধান প্রবেশপথে দৃষ্টিনন্দন গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো মাঠজুড়ে সাজসজ্জা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থাপনার কাজও এগিয়ে চলছে।
ঈদের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরাও মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
হায়দার আলী নামক এক শ্রমিক বলেন, “ঈদের নামাজ যেন সুন্দরভাবে আদায় করা যায়, সে জন্য আমরা সকাল থেকে কাজ করছি। সময়মতো সব প্রস্তুতি শেষ করতে চাই।
শ্রমিক আবুল কাশেম জানান, মাঠ সমান করা ও কাতারের লাইন ঠিক রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি কাজটা ভালোভাবে শেষ করতে।
শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন , এত বড় জামাত হয় এখানে, তাই আমাদের কাজেরও দায়িত্ব বেশি। ঈদের আগেই সব গুছিয়ে ফেলতে পারব বলে আশা করছি।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, “ঈদের জামাতকে ঘিরে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও পৌর প্রশাসক রিয়াজউদ্দিন জানান, মাঠ প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমরা আশা করছি, সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হবে।
সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এখন শুধু অপেক্ষা ঈদের দিনের। আগামী ঈদের দিন সকাল ৯টায় এই মাঠে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন দিনাজপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা মাহফুজুর রহমান।
আয়োজকরা আশা করছেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে এবারও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হবে জেলার বৃহত্তম ঈদের জামাত।

