ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামিকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগে ফিলিপ সাংমা নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। শনিবার (১৪ মার্চ) নদীয়া জেলার শান্তিপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, অর্থের বিনিময়ে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশে সহায়তা করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশে পুলিশের তৎপরতা বাড়লে তিনি নিজেও অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে আত্মগোপন করেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তসংলগ্ন ভুটিয়াপাড়া গ্রামে।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসারত অবস্থায় ছয় দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীরকে পুলিশ সরাসরি যুক্ত বলে চিহ্নিত করে।
গত সপ্তাহে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। বর্তমানে তারা ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। ফিলিপসহ এ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৩ জন ভারতে গ্রেপ্তার হলেন।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১২ জন অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ দুজন এখনো পলাতক।
গত ৭ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিলেও ইনকিলাব মঞ্চের আপত্তির মুখে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করছে।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনকে ফিলিপ সাংমার গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। ভারতে আটক হওয়া ফয়সাল, আলমগীর ও ফিলিপকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

