মিজানুর রহমান, কুড়িগ্রাম।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতিতে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়ে কমিটি গঠন এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সমিতির কয়েকজন সদস্য কমিটি বাতিল, আর্থিক লেনদেনের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সমিতির সাবেক সম্পাদক মো. আবু জাফর দুলাল সমবায় আইনের বিধি-বিধান অনুসরণ না করে এবং কোনো সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান ছাড়াই গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি কমিটি অনুমোদন করান এমন অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন সদস্য। তাদের দাবি, ওই কমিটিতে তার পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নবগঠিত কমিটিতে আবু জাফর দুলালের জামাতা জিয়াউর রহমানকে সম্পাদক এবং আরেক আত্মীয়কে সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী, ভাগ্নি-বউসহ একই পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে কমিটিতে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
সমিতির সদস্য শাহাজাহান বলেন, সমবায় সমিতিতে সাধারণত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এখানে নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ সভা হয়নি বলে আমরা জানতে পেরেছি।
অন্য এক অভিযোগকারী ফাতেমা বেগম বলেন,কমিটি গঠন বা নির্বাচন বিষয়ে আমরা আগে থেকে কিছু জানতাম না। পরে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারি। প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগকারীদের দাবি, সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে জেলা ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ প্রকৌশলী এবং উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর অনুসন্ধানে কিছু আর্থিক অসঙ্গতির বিষয় উঠে এসেছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত মতামত এখনো পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পানি সম্পদের একটি প্রকল্পে সভাপতি ও সেক্রেটারি হিসেবে পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব দিয়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকার মাটির কাজ দেখানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কাজের বিল উত্তোলন করা হলেও প্রকল্পে কাজ করা ২৫ জন এলসিএস (LCS) সদস্যকে এখনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি।
এলসিএস সদস্য ফকরুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রকল্পে কাজ করেছি। তবে এখনো কোনো পারিশ্রমিক পাইনি।
স্থানীয় কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ, একই পরিবারের একাধিক সদস্য কমিটিতে থাকায় সমিতির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগকারী শাহাজাহান জানান, গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা আতিকুর রহমান (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের আলোকে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিলের জন্য ডিসপিউট মামলা করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাবেক সম্পাদক মো. আবু জাফর দুলালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

