সালমান আহমদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামের হাট-বাজার ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকদ্রব্যের অবাধ কেনাবেচা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বর্তমানে হাতের নাগালে গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য পাওয়া যাওয়ায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত প্রায় দেড় বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কিছুটা শিথিল হওয়ার সুযোগে মাদক কারবারিরা তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। উপজেলার সদর থেকে শুরু করে সাচনাবাজার, বেহেলী বাজার, মন্নানঘাট বাজার, গজারিয়া বাজার, রামনগর বাজার, নোয়াগাঁও বাজার, লক্ষীপুর বাজার এবং আটগাঁও লালবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। এমনকি ছোট ছোট পানের দোকানেও ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সহজলভ্য হওয়ায় মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এক সময় এই এলাকায় মাদক ব্যবসা অনেকটা গোপনে চললেও এখন তা অনেকটাই প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে মরণনেশা ইয়াবার বিস্তার ঘটেছে ব্যাপকভাবে। এই নেশার জালে আটকা পড়ছে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, উদীয়মান তরুণ সমাজ, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও। বিত্তশালী পরিবারের সন্তানদের পাশাপাশি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের যুবকরাও নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া ও অর্থলগ্নিতে সিন্ডিকেট করে এই ব্যবসা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে উপজেলাজুড়ে মাদকসেবীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক যুবক চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও চুরির ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রবসহ স্থানীয় সমাজসেবীরা জানিয়েছেন, মাদকের এই নীল দংশনে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পড়ছে। মা-বাবার চোখের সামনেই অনেক সন্তান বিপথে যাচ্ছে, যা সমাজের জন্য এক অশনিসংকেত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেক সময় মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই কাজে জড়িয়ে পড়ে। তাই পক্ষপাতহীনভাবে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক কারবারিদের ধরতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অনেককে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদকের এই অভিশাপ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে তিনি পরিবার ও সচেতন মহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

