ব্রাজিলের মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে ক্রজেইরো আর আতলেতিকোর মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে ফুটবল বিশ্বের এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে। খেলোয়াড়দের মধ্যেকার তর্ক-বিদ্বেষ দ্রুত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বল নিয়ে খেলার বদলে মাঠে চলে লাথি, ঘুষি, ধাক্কাধাক্কি। রেফারি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, আর এক এক করে লাল কার্ড দেখাতে থাকেন।
ফাইনালে ২৩ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন – ক্রুজেইরোর ১২ এবং আতলেতিকোর ১১। বিশেষ করে ক্রুজেইরোর মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান এবং গোলকিপার এভারসনকে মাঠের মাঝেই লাল কার্ড দেখান রেফারি ম্যাথিয়াস দেলগাদো। বাকি ২১ জনকে ম্যাচ শেষে রেফারি লাল কার্ড দেখান। এটি ব্রাজিলে সিনিয়র পর্যায়ের ফুটবলে এক ম্যাচে সর্বাধিক লাল কার্ডের রেকর্ড স্থাপন করে।
তবে, এই রেকর্ডের তুলনায় আর্জেন্টিনার এক পঞ্চম বিভাগের ম্যাচ ছিল আরও চাঞ্চল্যকর। ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আতলেতিকো ক্লেপোল এবং ভিক্টোরিয়ানো অ্যারেনাসের ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে ৩৬ জন লাল কার্ড দেখেন। খেলা চলাকালীন ব্যক্তিগত সংঘাতে শুরু হয়েছিল পরিস্থিতি। ভিক্টোরিয়ানো খেলোয়াড় রদ্রিগো সানচেজ আতলেতিকোর জোনাথন লেদেসমার ওপর চড়াও হওয়ার পর মাঠে পূর্ণাঙ্গ মারামারি শুরু হয়।
এক এক করে দুই দলের মূল একাদশ, বদলি খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফরা এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। রেফারি দামিয়ান রুবিনো ঘটনাটিকে ‘সাধারণ মারামারি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। দুই দলের সব খেলোয়াড়, কোচ এবং বেঞ্চের স্টাফকে একসাথে লাল কার্ড দেখানো হয়।
ঘটনার পরিণতি ছিল ভয়াবহ। আতলেতিকোর কোচ সের্হিও মিচেইলি রেফারির সিদ্ধান্তকে ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করেন। ভিক্টোরিয়ানো ক্লাবের সভাপতি অভিযোগ করেন, যখন খেলোয়াড়রা মারামারি করছিল, রেফারি যেন পরিস্থিতি এড়িয়ে ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচের জন্য দুই দলই কার্যত খেলোয়াড়শূন্য হয়ে পড়েছিল।
কয়েক দিন পরে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদর দপ্তরে দেখা যায়, দুই দলের ৩০-এর বেশি খেলোয়াড় ডিসিপ্লিনারি ট্রাইব্যুনালের সামনে সাক্ষ্য দিতে হাজির। ক্লাব দুটির যুক্তি ছিল বড় ধরনের শাস্তি দিলে তারা টুর্নামেন্টে পরবর্তী ম্যাচ খেলতে পারবে না।
শেষ পর্যন্ত ভিডিও ফুটেজ দেখে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেয়, সব খেলোয়াড়দের মধ্যে যে সাতজন প্রকৃত অপরাধী ছিলেন তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। রদ্রিগো সানচেজ সাত ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন। বাকি ছয়জন হলেন মাতিয়াস পারদো, মাতিয়াস লাপোর্তে, নিকোলাস আরান্দা, আদ্রিয়ান কার্দোজা, অ্যালান কাস্ত্রো এবং ক্লদিও লেইভা। বাকি খেলোয়াড়দের রেহাই দেওয়া হয়।
ফুটবল কখনো শুধু খেলা নয় – কখনো তা যেন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। কিন্তু এই ঘটনার মাধুর্য ছিল ডিসিপ্লিনের মাধ্যমে ঠিক মতো শাস্তি প্রদান এবং ইতিহাসে জায়গা পাওয়া এক অবিশ্বাস্য রেকর্ডে।

