ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। সোমবার (৯ মার্চ) এশিয়ার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হওয়ার কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার প্রাইস ব্যারেল প্রতি ১৮.৩৫ ডলার বা ১৯.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১১.০৪ ডলারে পৌঁছায়। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১৬.৫০ ডলার বা ১৮.২ শতাংশ বেড়ে ১০৭.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল বিশ্ব অর্থনীতি এবং উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম স্বল্পমেয়াদে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই ইরাক ও কুয়েত উৎপাদন কমিয়েছে, আর কাতার তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ হ্রাস করেছে।
ইরাকের বসরা অয়েল কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় তেলের স্টোরেজ প্রায় ফাঁকা, তাই উৎপাদন ৭০ শতাংশ কমিয়ে ১.৩ মিলিয়ন ব্যারেল করা হয়েছে। যুদ্ধে জাহাজ চলাচলও বন্ধ হওয়ায় বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, সংঘাত চলতে থাকলে তেলের দাম আরও দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

