রাজধানীর ভোর তখনও পুরোপুরি জাগেনি। চারপাশে ছিল নিস্তব্ধতা। মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন, কেউ কেউ ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময়ই হঠাৎ বিকট এক শব্দে কেঁপে ওঠে তুরাগের কামারপাড়া এলাকার বামনারটেকের একটি চারতলা বাড়ি।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার ভোররাতের দিকে, রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকার কামারপাড়ার বামনারটেক এলাকায়। বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় হঠাৎ বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভেতরে থাকা মানুষগুলো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে দগ্ধ হন নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ১০ জন।
পরে জানা যায়, গ্যাসের লাইনের একটি ছিদ্র দিয়ে বের হওয়া গ্যাস কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে আসে। সেই থেকেই ঘটে বিস্ফোরণ, আর তার পরপরই আগুন লেগে যায় পুরো ঘরে।
ঘটনার পর চারপাশে চিৎকার আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা দৌড়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। দ্রুত সবাই মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দগ্ধ মানুষগুলোকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে বিষয়টি জানানো হয় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স–কে। জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রাফি আল ফারুক বলেন, তারা সেখানে পৌঁছে জানতে পারেন যে স্থানীয় লোকজন আগুন ইতিমধ্যে নিভিয়ে ফেলেছেন। দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, তাই তাদের আর আগুন নেভাতে হয়নি।
দগ্ধ ব্যক্তিদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট–এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, তুরাগ এলাকা থেকে দগ্ধ ১০ জনকে সেখানে আনা হয়েছে এবং তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। নূরে আলম সিদ্দিক, তুরাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই), বলেন যে বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের লাইনের ছিদ্র দিয়ে বের হওয়া গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
একটি স্বাভাবিক ভোর মুহূর্তেই বদলে গেল আতঙ্কে। কয়েক সেকেন্ডের বিস্ফোরণ ও আগুন একটি পরিবারের জীবনে নিয়ে এলো গভীর দুঃসহ স্মৃতি—আর পুরো এলাকাকে রেখে গেল ভোরের সেই ভয়াবহ মুহূর্তের সাক্ষী করে।

