আজ মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, রাত আকাশে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। পূর্ণিমার রুপালি চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢুকে মুহূর্তের মধ্যে টকটকে লাল বা তামাটে আভা ধারণ করবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এ ঘটনার নাম ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’। ২০২৬ সালের প্রথম এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ পরবর্তী ২০২৮ সাল পর্যন্ত আর দেখা যাবে না।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণের শেষ অংশ দেখা সম্ভব।
গ্রহণের সময়সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশ করবে। বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে শুরু হবে পূর্ণগ্রহণ, এবং বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে পৌঁছাবে কেন্দ্রীয় গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা ১.১১৫। পুরো প্রক্রিয়াটি ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলবে, যার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা চাঁদকে টকটকে লাল দেখা যাবে।
বাংলাদেশে সরাসরি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না। তবে চন্দ্রোদয়ের পর থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত গ্রহণের শেষ অংশ দেখা সম্ভব। শহরভিত্তিক সময়সূচি অনুযায়ী ঢাকায় সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ১২ সেকেন্ডে শুরু হবে এবং রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে শেষ হবে। চট্টগ্রামে শুরু হবে ৫টা ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে, শেষ হবে ৮টা ১৯ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে। সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহেও পর্যায়ক্রমে গ্রহণ দেখা যাবে।
‘ব্লাড মুন’ ঘটে তখন, যখন সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করে। পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে গেলে চাঁদ সরাসরি সূর্যের আলো পায় না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল লাল আলোর প্রতিফলন চাঁদের ওপর পড়ায় তা গাঢ় লাল বা তামাটে হয়ে ওঠে।
আকাশ মেঘলা থাকলে বা সরাসরি দেখার সুযোগ না মিললে আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে লাইভ দেখা যাবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্রিফিথ অবজারভেটরি, টাইমএন্ডডেট ডটকম এবং ভার্চুয়াল টেলিস্কোপ প্রকল্প লাইভ সম্প্রচার করবে মহাজাগতিক এই দৃশ্য।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, আজকের এই বিরল মুহূর্ত হাতছাড়া করা যাবে না। পরবর্তী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের জন্য ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আজকের রাত, আকাশে রূপালি চাঁদ লালাভা ছড়িয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে, পুরো বিশ্ব যেন এক বিরল মহাজাগতিক নাটকের অংশ হয়ে উঠবে।

