চাঁদপুরের মেঘনা নদী-র তীরে সেদিন বিকেলটা ছিল বন্ধুত্ব আর ইফতারের উষ্ণতায় ভরা। বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে বসে ইফতার করেছিলেন ২৭ বছর বয়সী শাহরিয়া রাজু। হাসি-আড্ডা শেষে রাত নামতেই মোটরসাইকেলে করে বাড়ির পথে রওনা হন তিনি। কিন্তু সেই ফেরা আর শেষ হলো না।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের সর্দার বাড়ি এলাকায় লক্ষ্মীপুর-রায়পুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অন্ধকার সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির সঙ্গে ধাক্কা লাগে রাজুর মোটরসাইকেলের। মুহূর্তেই মোটরসাইকেলটি লরির নিচে ঢুকে যায়। গুরুতর আহত রাজু ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত রাজু সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের আদিলপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। তিনি bKash-এর রায়পুর শাখায় কর্মরত ছিলেন। নিয়মিত রক্তদান ও সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার কারণে এলাকায় পরিচিত ছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজু ও তার কয়েকজন বন্ধু বিকেলে চাঁদপুরের চরভৈরব লঞ্চঘাট এলাকায় ইফতার করতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, লরিটি সরকারি কাজে নিয়োজিত ছিল এবং কোনো ধরনের সতর্কবার্তা বা চিহ্ন ছাড়াই অন্ধকারে সড়কের ওপর পার্ক করে রাখা হয়েছিল।
রাজুর বন্ধু কাজী মোহাম্মদ শামীম জানান, “নদীর পাড়ে ইফতার করে আমরা ফিরছিলাম। পথে দুর্ঘটনায় রাজু মারা গেছে। তার লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় বলে জানান সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ। তিনি বলেন, লরিটি বিকল হয়ে যাওয়ায় সড়কের পাশে দাঁড় করানো ছিল। ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজুর মরদেহের ময়নাতদন্ত করানো হবে না।
একটি ইফতারের সন্ধ্যা—যা হওয়ার কথা ছিল স্মৃতিময়—পরিণত হলো এক পরিবারের অপূরণীয় শোকে।

