মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা উৎখাতের জন্য সামরিক হুমকির পথ বেছে নিয়েছেন। এই নীতি দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কৌশল থেকে ভিন্ন এবং ইতিহাসবিদরা এটিকে ইরাক বা ভেনেজুয়েলার রেজিম পরিবর্তন নীতির তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা হিসেবে দেখছেন।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ঘোষণা দেয়, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। একই দিনে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন এবং ইঙ্গিত দেন যে ইরানিরা নিজেদের উদ্যোগে সরকার পরিবর্তন করবে। তিনি ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘যখন আমরা শেষ করব, তখন আপনারা আপনার সরকার দখল করুন। এটি হয়তো আপনার প্রজন্মের একমাত্র সুযোগ।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যর্থ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল। ট্রাম্পের অনমনীয় অবস্থান দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, কিন্তু সরাসরি শাসন নিয়ন্ত্রণ বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত নেই।
ইরাক এবং ভেনেজুয়েলার তুলনায় পার্থক্য স্পষ্ট। ২০০৩ সালে ইরাকে জর্জ ডব্লিউ বুশের নেতৃত্বে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছিল, এবং পরে একটি অস্থায়ী প্রশাসন গঠন করা হয়। ভেনেজুয়েলায় সীমিত সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে মাদুরোকে সরানোর চেষ্টা করা হলেও সরকারি কাঠামো মূলত অক্ষত রাখা হয়। ট্রাম্প ইরানের ক্ষেত্রে সরাসরি শাসন দখল বা শক্তির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার করেননি।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি অনিশ্চিত। সংবিধান অনুযায়ী নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব আলেমদের কাউন্সিলের ওপর। তবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র কমান্ড কাঠামো অস্থির ও বিশৃঙ্খল। মার্কিন–ইসরাইলি হামলায় রোববার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ২০০ জন নিহত এবং ৭০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, একটি কন্যা বিদ্যালয়ে হামলায় ৫৩ শিক্ষার্থী নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছে। তিনি জানান, ‘যারা আমাদের শিশুদের হত্যা করেছে, ইরান তাদের শাস্তি দেবে।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের বিক্ষোভকারীরা এখনও সরকার উৎখাতের বড় আন্দোলন শুরু করেনি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, যদি বর্তমান শাসন ব্যবস্থা পতিত হয়, তাহলে তার স্থলে কী আসবে। পরিস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে; চীন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এবং রাশিয়া এটিকে ‘পূর্বপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস।

