পলাশ মন্ডল,সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি:
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বিভিন্ন স্থানে রোগাক্রান্ত পশু জবাই ও ফ্রিজে রাখা পঁচা-বাসি মাংস বিক্রয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও পৌর বাজারে সরকারি ভাবে মাংস বিক্রয়ের নির্ধারিত স্থান থাকার পরেও ফার্নিচার সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাঝে অবৈধভাবে প্রধান সড়কের উপরে চৌকি বসিয়ে মাংস বিক্রয় করছেন দুইজন কসাই। এর প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ীগণ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাংসের সাথে বিভিন্ন আবর্জনা থাকায় অতিরিক্ত মশা মাছির আবির্ভাব ঘটছে। যার ফলে পরিবেশ নোংরা ও দূষিত হচ্ছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন তারা। এ ব্যাপারে ফার্নিচার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ঝন্টু জানান, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ ফার্নিচারের ব্যবসা করে আসছি। আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে কেউ কোনো দিন মাংস বিক্রয়ের দোকান দেয়নি। হঠাৎ কসাই দুলাল দোকান ভাড়া নিয়ে সরকারি আইন না মেনে পেশী শক্তি ব্যবহার করে অবাধে মাংস বিক্রয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পৌর বাসিন্দা জুয়েল মিয়া বলেন, এবিষয় কয়েকদিন আগে ইউএনও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা শুনেছি। দৃশ্যমাণ কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, কসাইরা গ্রাম- গঞ্জে থেকে অসুস্থ গরু সংগ্রহ করে সেই গরুর মাংস বিক্রয় করছেন অবাধে। তারা আরও জানান, কিছু গরু অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এমন অবস্থায় কম দামে ক্রয় করেন, পরে সেই গরুর মাংস বেশি দামে বিক্রয় করেন কসাইরা। যদি পশু জবাইয়ের আইন মানতে বাধ্য করা যেতো, তাহলে হয়তো আমরা নিরাপদে গরুর মাংস ক্রয় করে খেতে পারতাম।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: কাউছার হোসেন জানান, পৌর বাজারের প্রধান সড়কের উপর চৌকি বসিয়ে মাংস বিক্রয়ের অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে সমাধানের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

