শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে আকাশ যেন হঠাৎ ভারাক্রান্ত হয়ে উঠলো। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের পর্দায় দেখা গেল এক দৃশ্য যা দেশবাসীর জন্য চরম শোকের। এক উপস্থাপক কাঁদতে কাঁদতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এর মৃত্যুর ঘোষণা দিচ্ছেন।
তিনি ফারসি ভাষায় পড়লেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতি, যেখানে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি ইসলামী চিন্তাচেতনার রক্ষক, পাহাড়ের মতো অটল, সহৃদয় ও দৃঢ় নীতির নেতা ছিলেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য তিনি ছিলেন নির্দেশিকা এবং অভিভাবক।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, খামেনি সারা জীবন অক্লান্তভাবে সংগ্রামের পথে ছিলেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মর্যাদা অটুট রাখার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। শনিবার ভোরে তাঁর কার্যালয়ে কাজ করার সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন।
সারাদেশে একপ্রকার স্তব্ধতা নেমে এসেছে। টেলিভিশনের পর্দায় বিবৃতিটি পড়া চলার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অনুশোচনা ও শোকের ঢেউয়ে ভেসে যাচ্ছে। ইরানের সরকার রোববার থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এই একদিনে ইরানবাসীর মন–মগজ যেন থেমে গেছে। শহরের রাস্তায় মানুষ রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ প্রার্থনা করছেন, কেউ কেউ চোখের জল মুছে ফেলছেন। দেশের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি ছিল আধ্যাত্মিক ও মানসিক এক ক্ষতচিহ্ন, যা দেশকে দীর্ঘদিন প্রভাবিত করবে।
এভাবে একদা শক্তিশালী, অটল, এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতার চলে যাওয়া দেশকে এক অনিশ্চয়তার আবহে ফেলে দিল। শোকের এ দিনগুলোতে ইরানবাসী একসঙ্গে স্মরণ করবে তাঁর জীবন ও সংগ্রামের কথা—যেন তাঁর আত্মার শক্তি এখনও তাদের পাশে আছে।

