নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
সারাদিন রোজা রাখার পর মাগরিবের আজানের সঙ্গে ইফতার করা মুসলমানদের জন্য এক আনন্দঘন মুহূর্ত। টেবিলে সাজানো নানা পদের খাবার দেখে স্বাভাবিকভাবেই খাওয়ার আগ্রহ বেড়ে যায়। তবে অনেকেই লক্ষ্য করেন—পেট ভরে খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই শরীরে ভর করে অদ্ভুত ক্লান্তি ও ঝিমুনি। কেন এমন হয়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি সাধারণ কারণ।
কেন ইফতারের পর ক্লান্তি আসে?
১. একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়া
সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ করে বেশি খাবার খেলে শরীরের হজমপ্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে শরীরের রক্তপ্রবাহের বড় অংশ অন্ত্রের দিকে চলে যায়। ফলে মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে তন্দ্রা ও ক্লান্তি অনুভূত হয়।
২. পানিশূন্যতা
দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ইফতারে যদি পর্যাপ্ত পানি বা তরল গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ক্লান্তি আরও বাড়তে পারে।
৩. অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার
ডুবো তেলে ভাজা খাবার, অতিরিক্ত মসলাদার পদ বা মিষ্টি জাতীয় খাবার হজমে বেশি সময় নেয়। এতে শরীরের ওপর চাপ পড়ে এবং অবসন্নতা তৈরি হয়।
কীভাবে দূর করবেন ইফতারের পর ক্লান্তি?
ধীরে ও পরিমিতভাবে খান, ইফতার শুরু করুন খেজুর ও পানি দিয়ে। এরপর অল্প বিরতি নিয়ে ধীরে ধীরে খাবার গ্রহণ করুন।
পানিশূন্যতা দূর করুন
ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পাশাপাশি ফল, শরবত বা ডাবের পানি রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়।
হালকা খাবার বেছে নিন
ভাজাপোড়া কমিয়ে ছোলা, ফল, সালাদ, স্যুপ বা হালকা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন।
চা বা কফি (পরিমিতভাবে)
ইফতারের কিছু সময় পর এক কাপ হালকা চা বা কফি ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
হালকা হাঁটাহাঁটি করুন
খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়ে ১০–১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো হয় এবং শরীর সতেজ থাকে।
নামাজ আদায় করুন
ইফতারের শুরুতে হালকা কিছু খেয়ে নামাজ আদায় করলে শরীর খাবার হজমের সময় পায়, ফলে ক্লান্তি কম হয়।
উপসংহার
ইফতারের পর ক্লান্তি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং হালকা শারীরিক নড়াচড়া এই সমস্যা অনেকটাই কমাতে পারে। রমজানে সুস্থ থাকতে সচেতনতা ও পরিমিত খাবার গ্রহণই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

