রাজবাড়ী প্রতিনিধি :
রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের বাসুখালী মাঠে ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২৫ একর জমির পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে অর্ধশতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
শুক্রবার দুপুরে রাজবাড়ী-২ আসন-এর সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, বালিয়াকান্দি থানার ওসি আব্দুর রব তালুকদার এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।
কৃষকদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা পেঁয়াজ ক্ষেতে আগাছা দমনের বিষ স্প্রে করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আব্দুল করিম জানান, তিনি কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের বাসিন্দা। কয়েক বছর ধরে বাসুখালী মাঠে জমি লিজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করে আসছেন। এ বছর পাঁচ একর জমিতে হালি পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন, যা আর মাত্র ২০ দিন পর উত্তোলনের উপযোগী হতো। কিন্তু রাতে বিষ প্রয়োগে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আরেক কৃষক আনিসুর রহমান বলেন, ধারদেনা করে ৬০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। কয়েকদিনের মধ্যেই ঘরে তোলার প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু দুর্বৃত্তদের কর্মকাণ্ডে সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন ঘোষ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আগাছা দমনের কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আগাছার পাশাপাশি পেঁয়াজ গাছও নেতিয়ে পড়েছে। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।
বালিয়াকান্দি থানার ওসি আব্দুর রব তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে ফসল নষ্টের ঘটনা বেড়েছে। এর পেছনে কোনো বড় ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবাধে ঘাসনাশক বিষ বিক্রি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা না করলে তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়বেন।

