রাতের নিস্তব্ধতা হঠাৎ ভেঙে যায় আতঙ্কের চিৎকারে। নাটোরের সদর উপজেলার ডালসড়ক-সংলগ্ন পূর্ব ঢাকোপাড়া গ্রামে জাকির হোসেন ও তার পরিবারের জন্য সেই রাত ছিল কোনো স্বপ্নের নয়—বরং এক দুঃস্বপ্নের মতো।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোয়ালঘর থেকে হঠাৎ আগুনের স্লেস ধরে যায়। প্রথমে ছোট একটি জ্বলন্ত শিখা, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ল। জাকির হোসেন চিৎকার করে পরিবারের সবাইকে বের করলেন, প্রতিবেশীরাও ছুটে আসলেন। সবাই মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করল, কিন্তু আগুনের তাণ্ডব ছিল ভয়ঙ্কর।
আগুনের লাল শিখার মধ্যে মিলিয়ে গেল তিনটি গরু, সাতটি ছাগল, নগদ আড়াই লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ, খাট—সবই ধোঁয়ায় ঢেকে গেল। সাতটি টিনশেড ঘরের আসবাবপত্র, স্মৃতি আর সংগ্রহ—সবমিলিয়ে এক মুহূর্তে ছাই।
জাকির হোসেনের চোখে লজ্জা ও অসহায়তার ছাপ। নিজের শ্রমের ফল, জীবনের ছোট ছোট সঞ্চয়—সব এখন আগুনের মাঝে মিলিয়ে গেল। প্রতিটি শিখার মধ্যেই যেন ছিল তার কষ্টের স্রোত।
নাটোর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুর রউফ ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ক্ষতি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে—প্রেমের স্মৃতি, পরিশ্রমের ঘ্রাণ, জীবিকার প্রমাণ—সব কিছু ছাই হয়ে গেছে।
সেই রাতের নিরবতা আজও গ্রামে প্রতিধ্বনিত। জাকির হোসেন ও তার পরিবার দাঁড়িয়ে আছেন ধ্বংসস্তূপের পাশে, ভাবছেন—নতুনভাবে আবার শুরু করতে হবে, আবার ঘর গড়ে তুলতে হবে, আবার গবাদি পশু কিনতে হবে, আবার স্বপ্ন আঁকতে হবে। আগুন সবকিছু নষ্ট করতে পারে, কিন্তু মানুষের আশা আর সংগ্রামের মনোভাব শেষ করতে পারে না।
এই অগ্নিকান্ড শুধু ক্ষতি নয়, বরং সাহস, সহানুভূতি এবং নতুন শুরু করার ইচ্ছারও গল্প বয়ে আনে।

