ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হলো সাড়ে চার বছরের তাবাসসুমের বস্তাবন্দি মরদেহ। ছোট্ট শিশুটি, যার ছোট ছোট পা দিয়ে এই পৃথিবীকে আবিষ্কার করার কথা ছিল, এক অজানা দুঃখের আবরণে চিরদিনের নিস্তব্ধতায় ঢেকে গেল।
পরিবার জানায়, তাবাসসুম ছিল তাদের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু। বাবা নজরুল হোসেন স্থানীয় একটি দর্জির দোকানে, মা হালিমা খাতুন ওয়েব ফাউন্ডেশনে কাজ করতেন। চাকরির কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা ভাড়া থাকতেন। বুধবার বিকেলে যখন তাবাসসুম বাড়ি থেকে বের হয়, কেউ জানত না ছোট্ট মেয়েটির পথ এবার শেষ হবে কোথায়।
পরিবারের অনেক খোঁজাখুঁজি সত্ত্বেও কোনো সন্ধান মেলেনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় এক কৃষক মাঠে গিয়ে আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে রক্তমাখা একটি বস্তা দেখতে পান। গ্রামের লোকজন ডাক দেন, পুলিশ আসে, এবং তখনই ধরা পড়ে তাবাসসুমের দেহ।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, “মৃত্যু রহস্যজনক। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”
এই ছোট্ট প্রাণ, যার হাসি আর খেলা কখনো ফিরে আসবে না, আজ একটি গ্রামের নিস্তব্ধ কষ্টে বেঁচে আছে। তাবাসসুম আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবী কতটা ভঙ্গুর, আর শিশুদের নিরাপত্তা কতটা মূল্যবান। তার জীবন শেষ হলেও, তার গল্প যেন আমাদের সতর্ক রাখে—প্রতিটি শিশুর সুরক্ষা আমাদের দায়িত্ব।

