ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম আর্থিক ইবাদত হলো জাকাত, যা নামাজের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে বহুবার জাকাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা নামাজ আদায় করো এবং জাকাত প্রদান করো। (সুরা আল‑বাকারা: ১১০)।
জাকাত শুধুই দান নয়, এটি সম্পদকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন, “আপনি তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন। (সুরা আত‑তাওবা: ১০৩)।
জাকাতের নিসাব কত?
যাদের উপর জাকাত ফরজ, তাদের জন্য নির্ধারিত নিসাব হলো: সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা (প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম) অথবা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ (প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম) অথবা এ পরিমাণ সম্পদের সমমূল্যের নগদ অর্থ বা ব্যবসায়িক পণ্য যদি কোনো ব্যক্তি এই পরিমাণ সম্পদ এক পূর্ণ জাকাতবর্ষ ধরে রাখেন, তবে তার ওপর জাকাত ফরজ হবে।
জাকাতের জন্য কোন সম্পদ প্রযোজ্য?
জাকাত সাধারণত নিম্নোক্ত সম্পদে ফরজ হয়:
সোনা ও রুপা
ব্যাংকে জমা অর্থ, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড ও শেয়ার
হজ, ঘরবাড়ি বা বিয়ের জন্য রাখা অর্থ
ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ক্রয় করা পণ্য
দোকানপাটের বাণিজ্যিক মালামাল
জমি বা প্লট (বিনিয়োগ বা ব্যবসার জন্য)
বাড়ি ভাড়া থেকে বাকি বার্ষিক অর্থ
জাকাতবর্ষ ও হার
জাকাতবর্ষ মানে সেই নির্দিষ্ট সময়কাল, যার ভিত্তিতে জাকাত হিসাব করা হয়। ইসলামী শরিয়তে এটি চান্দ্র বছরের উপর নির্ভর করে। চান্দ্র বছরের দৈর্ঘ্য ৩৫৪ দিন, এবং এর ওপর জাকাতের হার ২.৫% নির্ধারিত।
বর্তমান নিসাব
২০২৪ সালের বাজারদর অনুযায়ী, সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মূল্য প্রায় ৮৪,০০০ টাকা। এ সমমূল্যের অর্থ বা সম্পদ থাকলে জাকাত ফরজ হবে, যদি তা এক বছর ধরে রাখা হয়।
নতুন সম্পদ যুক্ত হলে পূর্বের সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে জাকাত আদায় করতে হবে। এতে সম্পদ পরিশুদ্ধ হয়, দরিদ্রদের অধিকার নিশ্চিত হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।

