মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিভিন্ন চক্রান্ত শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের কারণে। গত শুক্রবার রাতে কালের কণ্ঠ-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, গত দেড় বছরে তিনি নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। কখনো বঙ্গভবনে মব পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, আবার কখনো আড়ালে গভীর ষড়যন্ত্র চলেছে।
তিনি বলেন, এসব সংকটের মধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে পাওয়া আশ্বাস ও সমর্থন তাঁকে মনোবল ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে তিনি সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষায়, বাহিনীপ্রধানরা তাঁকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক; রাষ্ট্রপতির পরাজয় মানে পুরো বাহিনীর পরাজয়, যা তারা কোনোভাবেই হতে দেবেন না।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বঙ্গভবনে গিয়ে তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতর থেকেও একবার তাঁকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। সে সময়ও বাহিনীপ্রধানরা তাঁর পক্ষে অবস্থান নেন এবং অসাংবিধানিক কোনো পদক্ষেপ না নিতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বৃহত্তর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষ থেকেও তিনি স্পষ্ট সমর্থন পেয়েছেন। দলটির শীর্ষ নেতারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেন এবং অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতি অপসারণের বিরোধিতা করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। সেই সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের চাপ থেকেই এসব তৎপরতার সূচনা হয় এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে বিভাজন তৈরি হয়। তাঁকে মানসিকভাবে চাপে রেখে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টাও চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পর্যায়ে উদ্যোগ ব্যর্থ হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতর থেকেই নতুন করে অপসারণের চেষ্টা করা হয়। এমনকি অসাংবিধানিকভাবে তৎকালীন প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতির স্থানে বসানোর পরিকল্পনাও ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তবে প্রধান বিচারপতির অনড় অবস্থান, সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় সমর্থন এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটের অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত সব ধরনের উদ্যোগই ব্যর্থ হয় বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

