আমরা প্রতিদিন ইন্টারনেটে যা দেখি—ফেসবুক, ইউটিউব বা গুগল—তা আসলে পুরো ইন্টারনেটের খুব ছোট একটি অংশ। অনেক গবেষকের মতে, সার্চ ইঞ্জিনে যেসব তথ্য দেখা যায়, তা মোট কনটেন্টের মাত্র কয়েক শতাংশ। বাকি অংশ সাধারণ ব্যবহারকারীর চোখের আড়ালেই থাকে।
ইন্টারনেটকে সাধারণভাবে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়—সারফেস ওয়েব, ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব।
আপনি এখন যে ভিডিওটি দেখছেন বা প্রতিদিন যেসব ওয়েবসাইট ব্রাউজ করেন, সেগুলোই সারফেস ওয়েব। এটি সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পাওয়া যায় এবং সবার জন্য উন্মুক্ত।
এর পরের স্তর হলো ডিপ ওয়েব। এটি পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত অংশ। যেমন—ইমেইল ইনবক্স, অনলাইন ব্যাংকিং, ব্যক্তিগত ক্লাউড ফাইল বা মেডিকেল রেকর্ড। ডিপ ওয়েব অবৈধ নয়; বরং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার জন্যই এটি ব্যবহৃত হয়।
সবচেয়ে ভেতরের স্তরটি হলো ডার্ক ওয়েব। এটি ডিপ ওয়েবেরই একটি ছোট অংশ, যা ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন থেকে লুকিয়ে রাখা হয়। এখানে ব্যবহারকারীর পরিচয় গোপন রাখার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে সাধারণ ব্রাউজার যথেষ্ট নয়। সাধারণত Tor বা এ ধরনের বিশেষ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে হয়। এই নেটওয়ার্ক একাধিক স্তরের এনক্রিপশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান ও পরিচয় আড়াল করে। এসব সাইটের ঠিকানাও আলাদা ধরনের হয়, যেগুলোর শেষে সাধারণত .onion ডোমেইন দেখা যায়।
ডার্ক ওয়েব মানেই যে শুধু অপরাধ—বিষয়টি এমন নয়। কিছু দেশে কঠোর সেন্সরশিপ বা নজরদারি থাকায় সাংবাদিক, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা নিরাপদ যোগাযোগের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।
তবে এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডার্ক ওয়েবের কিছু অংশে অবৈধ পণ্য কেনাবেচা, চুরি হওয়া ডেটা লেনদেন এবং সাইবার অপরাধ সংঘটিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, কৌতূহলবশত ডার্ক ওয়েব ব্রাউজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অজানা লিঙ্ক, প্রতারণামূলক সাইট বা ম্যালওয়্যারের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রয়োজন ছাড়া এ ধরনের নেটওয়ার্কে প্রবেশ না করাই নিরাপদ।
সবশেষে বলা যায়, ইন্টারনেটের উন্মুক্ত অংশই সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য যথেষ্ট। সচেতন ব্যবহারই অনলাইন নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় শর্ত।
ভিডিওটি তথ্যবহুল মনে হলে শেয়ার করুন এবং আপনার মতামত জানাতে কমেন্ট করুন।
