আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ তিন জেলায় ৩৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন শুরু করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ৫ ব্যাটালিয়নের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান। তিনি বলেন, ঢাকা সেক্টরের অধীন পাঁচটি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা সেক্টরের আওতাধীন ৫ ব্যাটালিয়নের মোট ৩৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুর জেলার চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি আসনে ৮ প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হবে। পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবির কে-৯ ডগ স্কোয়াড গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন থাকবে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় নজরদারি বাড়ানো হবে।
এবার নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বিজিবির সদস্যরা ব্যবহার করবেন বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) এবং আধুনিক সিগন্যাল যোগাযোগ সরঞ্জাম। পুরো পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে বিজিবির ভূমিকা প্রসঙ্গে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। প্রিজাইডিং অফিসার সহায়তা চাইলে অথবা সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা জাল ভোটের আশঙ্কা দেখা দিলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

