যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলজুড়ে গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী তুষারঝড়ে অন্তত ১৪টি অঙ্গরাজ্যে কমপক্ষে ৩৮ জনের মৃত্যু ঘটেছে। বরফাচ্ছন্ন রাস্তা, তুষারপাত এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়া এলাকায় জীবন ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।
নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত শুক্রবার শুরু হওয়া ঝড় সপ্তাহান্তে সর্বাধিক তুষারপাতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই আট বছরের মধ্যে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমেছে। মৃতদের সবাইকে বাইরে পাওয়া গেলেও তারা গৃহহীন ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। নিউইয়র্ক সিটিতে সবচেয়ে বেশি ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
তুষারঝড়ে সড়কের যোগাযোগ ব্যাহত হয়, বহু ফ্লাইট বাতিল হয় এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশজুড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন ছিল। জরুরি সেবা প্রদানকারী দলগুলোর কর্মীরা বিশেষভাবে গৃহহীনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
শহরের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র ও দুটি অতিরিক্ত কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ১,৪০০ গৃহহীন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ন্যাশভিল রেসকিউ মিশনে সাধারণত রাতে ৪০০ জন আশ্রয় নেন, কিন্তু এই শৈত্যপ্রবাহে সংখ্যাটি বেড়ে ৭ হাজারে পৌঁছেছে।
মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হাইপোথার্মিয়া, অতিরিক্ত ঠান্ডায় হৃদরোগজনিত জটিলতা, এবং বরফ পরিষ্কার করতে গিয়ে দুর্ঘটনা। বিশেষ ঘটনা হিসেবে টেক্সাসের বোনহ্যামে বরফে জমা একটি পুকুরে পড়ে তিন কিশোরের মৃত্যু ঘটেছে। এছাড়াও কানসাস, কেনটাকি, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেনেসি এবং মিশিগানেও এ ধরনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে আরেকটি তুষারঝড় আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে অন্তত ২০ কোটি আমেরিকান শীত সতর্কতার আওতায় আছেন, যা ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার সম্ভাবনা রয়েছে।
তুষারঝড়ের কারণে সড়ক, ফ্লাইট, বিদ্যুৎ এবং গৃহহীনদের আশ্রয় সমস্যায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, হিমাঙ্কের নিচে ঠান্ডা এবং পরবর্তী ঝড়ের সম্ভাবনার কারণে দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

