শুভ কুমার ঘোষ, সিরাজগঞ্জ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে নারীদের সঙ্গে কে কী করেছে—সবকিছুই আমাদের জানা আছে। “বাক্সের মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না, তাহলে সব প্রকাশ করে দেব,” বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শনিবার (তারিখ) বিকেলে সিরাজগঞ্জের ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত নারীদের এগিয়ে যাওয়ায় কোনো বাধা দেবে না। বরং নারীদের ঘর, চলাচল ও কর্মস্থল—এই তিন ক্ষেত্রেই শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে যে অর্থ লোপাট করা হয়েছে, তা ফিরিয়ে আনতে জামায়াত কাজ করবে। দুর্নীতি বন্ধ ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরানো গেলে দেশের চেহারা বদলে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াত দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায় বলে জানান দলের আমির।
একটি উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাঁশ বাগানের মাথার ওপরে চাঁদ উঠেছে—এই ছড়ির মতোই আজ বাগানে আর বাঁশ নেই, কারণ সেগুলো রডের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে।” তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিমেন্টের সঙ্গে ছাই মেশানো কিংবা রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের মতো অনিয়ম হবে না, ইনশাআল্লাহ।
জনসভায় তিনি জেলার বিভিন্ন আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং জোটের পক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ক্ষমতায় গেলে সিরাজগঞ্জের হারিয়ে যাওয়া তাঁত শিল্প পুনরুদ্ধার এবং গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দেন জামায়াত আমির।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে ওসমান হাদি হত্যার বিচার, ১৪০০ শহীদের হত্যাকারীদের বিচার এবং বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসার নিশ্চয়তা। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে বাংলার জমিনে চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনী মাঠে সমালোচনা হবে, কথা হবে—কিন্তু কেউ যেন কাউকে গালি না দেয়। জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

