জাবিতে মাদক, নিপীড়ন ও  চাঁদাবাজি মুক্ত ক্যাম্পাসের  দাবিতে মানববন্ধন

জাবি প্রতিনিধি:
সম্প্রতি সংঘটিত গণধর্ষনের ঘটনা সহ বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত অবৈধভাবে হলে বসবাসকারী, মাদক, চাদাবাজি, ও নিপীড়ন মুক্ত ক্যাম্পাস  করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
আজ  (১১ ফেব্রুয়ারি) রোজ রবিবার,দুপুর ১২.৩০ মিনিটে শহীদ মিনার সংলগ্ন রাস্তায় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, র‍্যাব বলেছেন জাবি প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছেন, ইউজিসি চেয়ারম্যান অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত অধ্যাপক ড.আলমগীর বলেছেন জাবি প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছেন। এবং গতকাল একটি কর্মশালায় তিনি ঘোষনা দিয়েছেন অপরাধ তদন্তের জন্য একটি শক্তিশালী উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন সেল গঠন করা হবে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে জাবি উপাচার্য এবং প্রশাসনের দায়িত্ব  কি,শুধু বাসভবনে থাকা আর উপাচার্য ভবনে উপাচার্য পদ উপভোগ করা নাকি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান জড়িত এখানে, যদি আপনি জাহাঙ্গীরনগরের অভিভাবক ও উপাচার্য হিসেবে মনে করেন আপনি ব্যর্থ হয়েছে তাহলে এটা স্বঈকার করতে সমস্যা কোথায়। আমরা এখানে দাড়িয়েছি এটা কোনো দলের প্রোগ্রাম নয়, এটা বিশ্ববিদ্যালয় বাচাও আন্দোলন। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ব্যনারে দাড়িয়েছি বলে রাজনৈতিক বক্তব্য ভাবার কোনো কারন নেই, পতাকাটা বাচানোর প্রশ্ন এসেছে।
আপনারা যারা জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থী তারা ছাত্রদের আন্দোলনের ইতিহাস জানেন, এদেশটি জন্ম নিয়েছে যাদের রক্তের বিনিময়ে, এদেশের আন্দোলন গুলো বিশেষ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুধে সফল হয়েছে যাদের পরামর্শে সেই বুদ্ধি জীবী মহল কোথায়, তাদেরকে পাশে পাচ্ছি না কেন। আমাদেরকে কেন শুধু দাড়াতে হচ্ছে, তাই আজকে এই মানব্বন্ধনের মাধ্যমে বুদ্ধিজীবী মহলকে একটা বিষয় জানাতে চাই শুধু একটা এক্তরফা নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে গোটা জাতির, গোটা নাগরিক সমাজকে আহবান  জানিয়ে দায়িত্ব  শেষ করা যায় না। এধরনের বিশ্ববিদ্যালয় ধংস হওয়ার ষড়যন্ত্র যেখানে চলছে সেখানে আপনাদের ভূমিকা কি, বুদ্ধিজীবি মহলের কাছে একটি বিনীত প্রশ্ন।
সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের আট দিন হয়ে গেলেও উত্তপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, তোপের মুখে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গণিত বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ঠিক ২৫ বছর পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের একই ঘটনা ঘটেছে এবং একই ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দ্বারা এটি সংগঠিত হয়েছে। নতুন করে ধর্ষণের সাথে যুক্ত হয়েছে মাদক। অসংখ্য শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে গেছে মাদকের ভয়াল থাবায়।
আবাসিক হলগুলোতে অবৈধ ছাত্ররা অবাধে থাকছে, চাঁদাবাজি হচ্ছে, মাদকের প্রসার হচ্ছে। উপাচার্য এগুলো জেনেও যদি না জানার ভান করেন, তাহলে তিনি পদে থাকার অযোগ্য। বিশমাইল এলাকায় ছাত্রদল একটা স্লোগান তিন মিনিটের মধ্যে ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা দৌড়ানো শুরু করে। অথচ সাত-আটঘণ্টা ধরে একটি গ্রাফিতি আকা হয়েছে, এটা তাদের চোখেই পড়েনি।
সহোযোগী অধ্যাপক বোরহান উদ্দীন জানান যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অছাত্রদের হল থেকে বের করার জন্য তাদের যে কার্যক্রম চালাচ্ছে, এখন পর্যন্ত তারা কি কোনো ছাত্রকে হল থেকে বের করতে পেরেছে, এটার কি কোনো তালিকা এসেছে,আমি এই মানববন্ধন থেকে দাবি জানাচ্ছি যে প্রতিটি হলে প্রত্যেক বৈধ শিক্ষার্থীর রুম এলোটমেন্ট এর তালিকা প্রকাশ করা হোক,কাদের মেয়াদ উত্তীর্ন এবং কাদেরকে হল থেকে বের করা হয়েছে তাদের তালিকা প্রকাশ করা হোক।
এছাড়াও তিনি আর ও জানা যে, গতবছর জুন মাসে মীর মোশারফ হোসেন হল এর শিক্ষার্থী প্রত্যয় এম এইচ হলের অবৈধ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করার জন্য যে অনশন এ বসেছিলেন,তখন প্রশাসন তাকে আশ্বাস দিলেও কোনো কাজ হয়নি।তখন প্রশাসন যদি একটা ব্যবস্থা নিত অছাত্রদের বিরুদ্ধে তাহলে আজকে আমাদেরক এই জঘন্য একটা দিন দেখতে হত না।
 অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তারের সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে আর ও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মো. শামছুল আলম, , অধ্যাপক  নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা, অধ্যাপক রাশিদুল আলম, অধ্যাপক আমির হোসেন ভূঁইয়া।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

বিষয়: * জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ