সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নেমে এসেছে এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। টানা রাতভর ঘন কুয়াশা থাকার পর বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এতে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
এর আগের দুই দিনেও তাপমাত্রা কমতে থাকে-বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ছিল ১১.৫ ডিগ্রি এবং মঙ্গলবার ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একাধিক দিন ধরে তাপমাত্রার এই ধীর পতন শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকায় শীতের প্রভাব স্পষ্টভাবে বাড়িয়েছে।
হঠাৎ ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন হাওর অঞ্চলের বাসিন্দা, চা-বাগানের শ্রমিক এবং নিম্নআয়ের মানুষজন। ভোরের দিকে কনকনে শীত টের পাওয়া গেলেও সূর্য ওঠার পর আবহাওয়া কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়। তবে সন্ধ্যা নামলেই আবার নেমে আসে তীব্র ঠান্ডা।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান,“সকালে ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা এ মৌসুমে সবচেয়ে কম। যদিও সকালবেলার রোদে ঠান্ডা কিছুটা নেতিয়ে যায়, তবে সন্ধ্যার পর আবার শীত ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া দফতরের রেকর্ড অনুযায়ী,শ্রীমঙ্গলে সর্বকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি-মাত্র ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ২৯ জানুয়ারি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাম্প্রতিক ইতিহাসে ১৯৯৫, ২০০৭ এবং ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শ্রীমঙ্গলে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন,শীতের এই ধারা আগামী কয়েকদিন বজায় থাকতে পারে। ফলে দুর্বল ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

