দেশের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণের উন্নয়ন বাজেট নিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সম্মেলনকক্ষে এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই মেগা বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বাজেটের মূল অগ্রাধিকার খাতসমূহবৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এবারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার পাশাপাশি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
সভায় মূলত যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে:সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কৌশলগত বাস্তবায়ন।বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও টেকসই প্রবৃদ্ধি।প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা জোরদারকরণ।অবহেলিত অঞ্চলের উন্নয়নে আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প।এডিপি-র অর্থায়নের উৎস ও কাঠামোগত বিবরণপরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের মূল এডিপি-র আকার নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা।
তবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব তহবিল যুক্ত হওয়ায় মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। নিচে এর সম্পূর্ণ হিসাব দেওয়া হলো:অর্থায়নের খাত ও উৎসবরাদ্দের পরিমাণ (টাকা)সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি):১,৯০,০০০ কোটি টাকাবৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য (সহায়তা):১,১০,০০০ কোটি টাকামূল এডিপি-র সর্বমোট আকার:৩,০০,০০০ কোটি টাকাস্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন:৮,৯২৪ কোটি টাকামোট উন্নয়ন ব্যয়ের চূড়ান্ত আকার:৩,০৮,৯২৪ কোটি টাকাসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নের ওপর জোর দেওয়ার এই প্রবণতা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

