আল আমিন হোসেন, পাংশা (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:
আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় এখন আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে তিনটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়—রাজা, বাদশা এবং কালা মানিক। একই খামারে পরম যত্নে বেড়ে ওঠা এই তিন ‘দানবের’ একেকটির ওজন বর্তমানে ৩০ মণেরও বেশি। বিশালাকৃতির এই গরু তিনটিকে ঘিরে এখন উৎসুক জনতার ভিড় জমছে পাংশার মাছপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশের ‘ভাই ভাই ডেইরী ফার্মে’।
ভাই ভাই ডেইরী ফার্মের মালিক প্রশান্ত কুমার দাস জানান, এবারের কোরবানির বাজারে তিনি মোট ৭টি গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খামারের প্রধান আকর্ষণ ৩০ মণের উপরে ওজনের রাজা, বাদশা ও কালা মানিক হলেও, বাকি ৪টি গরুর আকারও বেশ নজরকাড়া। এই ৪টি গরুর ওজন ১০ মণ থেকে ১৫ মণের মধ্যে, যা মাঝারি ও বড় ওজনের গরু খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খামারের মালিক প্রশান্ত কুমার দাস এবং তার স্ত্রী ভারতী রানী দাস গরুগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে পালনের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন আবেগের জায়গায়। তারা জানান, গত কয়েক বছর ধরে রাজা, বাদশা ও কালা মানিকসহ বাকি গরুগুলোকে তারা নিজেদের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন। তাদের আদরে আর যত্নেই আজ এই বিশালাকৃতির অধিকারী হয়েছে গরুগুলো।
কোনো ধরনের কৃত্রিম পদ্ধতি বা ক্ষতিকর খাবার ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলোকে বড় করা হয়েছে। খামারি প্রশান্ত কুমার জানান, তাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকে ভুট্টা ও খেসারির গুঁড়া, খৈল, গমের ভুসি, ছোলা, ধানের কুঁড়া এবং প্রচুর পরিমাণে কাঁচা ঘাস।
তিনটি বড় গরুর প্রতিদিনের রাজকীয় খাবারের পেছনেই ব্যয় হয় প্রায় ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা। সব মিলিয়ে ৭টি গরুর দেখাশোনা ও খাদ্যের পেছনে বিশাল অংকের টাকা বিনিয়োগ করেছেন এই দম্পতি। এবারের ঈদে কাঙ্ক্ষিত দামে গরুগুলো বিক্রি করতে পারবেন বলে তারা জোরালো আশা পোষণ করছেন।
হাট শুরুর আগেই এই তিন দানবীয় ষাঁড়সহ বাকি গরুগুলোকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ খামারে আসছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, গরুগুলোর সুস্বাস্থ্য ও বিশালাকৃতির কারণে এগুলো এবারের কোরবানির প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়াবে। এখন শুধু দেখার অপেক্ষা, কোন সৌভাগ্যবান ক্রেতারা পাংশার এই সেরা গরুগুলো সংগ্রহ করেন।

