মিকেল চাকমা
জেলা প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা বাংলাদেশের পূর্ব দক্ষিণাংশের সর্ব উত্তরে সীমান্তবর্তী একটি উপজেলা। জেলা সদর হতে এর দূরত্ব ১৪৬কি.মি.। এটি আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা। যার আয়তন ৭০৩ বর্গমাইল। এ উপজেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে মিজোরাম রাজ্য, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা। এর ৮টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা রয়েছে। বৃহত্তম এই উপজেলায় অগ্নি নির্বাপণের জন্য নেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন।
উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের দাবিতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন এলাকাবাসী।
আজ রবিবার (১৭ আগষ্ট) রাঙামাটি শহরে একটি রেঁস্তোরায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অ্যাড. রহমত উল্লাহ, বাংলাদেশ জমায়েত ইসলামী রাঙ্গামাটি জেলা শাখা সূরা সদস্য, ও নবগঠিত জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী সদস্য, মোঃ আল-আমিন সাবেক সভাপতি রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ছাত্র দল, অ্যাড. মোঃ জিল্লুর রহমান আইনজীবী জেলা আইনজীবী সমিতি রাঙ্গামাটি, মোঃ করিম বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাঙ্গামাটি বনরূপা বাজার রাঙ্গামাটি, মোঃ আলমগীর হোসেন সভাপতি পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙ্গামাটি জেলা শাখা, মোঃ রাকিব সদস্য রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ছাত্র দলসহ বাঘাইছড়ির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি। এখানে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ বাজার, পাহাড়ি গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্রসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প। অথচ এ গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় এখনো ফায়ার সার্ভিসের কোনো স্থায়ী স্টেশন নেই। ফলে দুর্ঘটনা কিংবা অগ্নিকাণ্ড ঘটলে সময়মতো উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ সম্ভব হয় না।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গত ২১ মে-২০২৫ সালে উপজেলার মুসলিম ব্লক বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর আগে ২১ জুলাই-২০২২ সালে বৃহত্তর দুরছড়ি বাজার এবং একাধিকবার বাঘাইহাট বাজারসহ আশপাশের এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বটতলী বাজারে অগ্নিকান্ডে নি:স্ব হয়েছে অনেক ব্যবসায়ী। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা না পাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা যায়নি।
এসময় এলাকাবাসী অভিযোগ করে করে বলেন, নিকটবর্তী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে গাড়ি পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কারণে এ সমস্যা আরও প্রকট। অনেক সময় স্থানীয় মানুষ জন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
(১) অবিলম্বে বাঘাইছড়িতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন।
(২) অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কাজে পর্যাপ্ত জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও যানবাহন সরবরাহ।
(৩) স্থানীয় জনগণের জন্য নিয়মিত ফায়ার সেফটি প্রশিক্ষণ চালু।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, গত ৩ জুন জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছিল এবং ২৫ জুন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তার সাথেও যোগাযোগ করা হয়। উভয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবিকে যৌক্তিক মনে করলেও এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

