প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৫
গাজা:
ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলায় গাজা শহরে অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছে। পুরো গাজা উপত্যকাজুড়ে বুধবার ভোর থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজা-ভিত্তিক চিকিৎসা সূত্র।
উত্তর গাজার সহায়তা বিতরণ পয়েন্টে সমবেত মানুষের ওপর চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। খাবার ও সহায়তার জন্য অপেক্ষারত আরও ৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে, যার মধ্যে ১৬ জন রাফাহ শহরের উত্তরে নিহত হন বলে জানিয়েছে নাসের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গাজা সিটির এক কবরস্থানে নাতনির মরদেহ বহন করছেন এক বৃদ্ধা নারী, সে-ও নিহত হয়েছে ভোরের এক বিমান হামলায় — এমন হৃদয়বিদারক চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শিশু মৃত্যুর মিছিল
গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে আরও ৮ জনের, যাদের মধ্যে ৩ জন শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে এ পর্যন্ত খাদ্যাভাবে ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১০৬ জন শিশু।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা UNRWA-র প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেন,
“এটি গাজায় শিশুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এক মিলিয়নের বেশি শিশু এখন শিক্ষাবিহীন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, এবং ভবিষ্যত থেকে বঞ্চিত। এটি বিশ্ব বিবেকের জন্য এক কঠিন প্রশ্ন।”
হাসপাতাল ধ্বংস, চিকিৎসকরা টার্গেট
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে — যা “মেডিসাইড” বা চিকিৎসা গণহত্যার শামিল। তারা বলেন,
“আমরা শুধু গণহত্যার সাক্ষী নই, আমরা ‘মেডিসাইড’-এরও সাক্ষী। চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতন ও হামলার শিকার হচ্ছেন।”
যুদ্ধ থামাতে আলোচনা
এই পরিস্থিতিতে হামাসের একটি প্রতিনিধি দল মিসরের কায়রোতে পৌঁছেছে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নিতে। হামাস জানিয়েছে, তারা গাজার প্রশাসন নিরপেক্ষ একটি কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে রাজি — তবে অস্ত্র ত্যাগ করবে না যতক্ষণ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হয়।
গাজা শহর দখলের প্রস্তুতি
ইসরায়েলি বাহিনী গাজার অন্যতম বৃহৎ অঞ্চল ‘জেইতুন’এ ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। গত তিন দিনে সেখানে ৩০০-র বেশি বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা সম্প্রতি গাজা শহর সম্পূর্ণ দখল এবং লক্ষাধিক বাসিন্দাকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, সেনাদের প্রস্তুতি বাড়ানো হচ্ছে এবং রিজার্ভ বাহিনী ডাকার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সহায়তা পয়েন্টগুলোতে মৃত্যু
গাজার মূল খাদ্য ও সহায়তা প্রবেশপথ ‘জিকিম ক্রসিং’-এ সহায়তা নিতে গিয়ে অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। কিছু ট্রাক ঢুকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
“সহায়তার নামে মিডিয়া দেখানোর প্রচেষ্টা চলছে। বাস্তবতা হচ্ছে, মানুষ প্রতিদিনই অনাহারে মারা যাচ্ছে।”

