আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :
ফলটি দেখতে অনেকটা আপেলের মতো। ওপর অংশে হালকা সিঁদুর রং। খেতে বেশ সুস্বাদু, রসালো এবং মিষ্টি। নাম ‘বল সুন্দরী’ কুল। বিশাল বাগানে এক একটি গাছ ৫ থেকে ৬ হাত লম্বা। গাছের নিচ থেকে উপর পর্যন্ত সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুুলছে শুধু বরই আর বরই। এমন এক দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া এলাকায় মো: জহিরুল ইসলামের বাগানে। কঠোর পরিশ্রম আর ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিশাল জায়গাতে বাণিজ্যিকভাবে বল সুন্দরী কুল বরই চাষ করে বাজিমাত করেছেন। জহিরুল ইসলাম ছয়ঘড়িয়া গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে।
শখের বসে বরই চাষ করে ইতিমধ্যে তিনি এলাকায় চমক সৃষ্টি করেন। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি বরই ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি করেছে। গত এক মাস ধরে বরই বিক্রি করছেন। এ পর্যন্ত ৩ লাখ টাকার উপর বরই বিক্রি করেন। এই বাগান থেকে ৭ লাখ টাকার উপর বরই বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।
এদিকে বরই ফলন ও বিক্রিতে দর ভালো পাওয়ায় তার মুখে দেখা দিয়েছে হাসিক ঝিলিক। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এই বাগান থেকে যাবতীয় খরচবাদে ৩ লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে এই ফলটি খেতে সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ পরিচিতি লাভ করায় দিন দিন বেড়েছে ক্রেতাদের চাহিদাও। প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে অনেক লোকজন এসে দেখে ক্রয় করছেন এবং এ বিষয়ে নানা পরামর্শ নিচ্ছেন।
সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে লুকিয়ে রয়েছে ভারত সুন্দরী, বল সুন্দরী, কাষ্মীরি ও টক কূল বড়ই। যে দিকে দৃষ্টি যায় শুধু বড়ই আর বড়ই চোখে পড়ছে। দেখতে অনেকটা মাঝারি সাইজের আপেলের মতো। রঙ আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল। প্রতি গাছে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কেজির উপর বড়ই ধরেছে। ওইসব বড়ই খেতে অনেক সুস্বাধু ও মিষ্টি। গাছের পরিচর্যাসহ ফল বিক্রি নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এই উদ্যোক্তা।
বাগান মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি কুমিল্লায় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। তবে ছোট বেলা থেকে ফল সবজি চাষের প্রতি যতেষ্ট আগ্রহ ছিল।
বাগান মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি কুমিল্লায় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। তবে ছোট বেলা থেকে ফল সবজি চাষের প্রতি যতেষ্ট আগ্রহ ছিল।
জীবিকার প্রয়োজনে কর্মের কারণে এলাকার বাহিরে থাকলে ও প্রায় সময় বাড়িতে আসা হয়। নিজ এলাকায় বড় আকারের বরই বাগান হয়েছে লোকমুখে শুনে গত বছর আমি তা দেখতে আসি। বাগান দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে যায়। বাগানের বরই খাওয়ার জন্য কিছু বরই সেখান থেকে কেনা হয়। এরপর বরই বাগান করতে আমার শখ হয়। কয়েক দিন পর শুনতে পেলাম আগের মালিক বাগান ছেড়ে দিচ্ছে। এরপর যোগাযোগ করে ১০ বিঘা জমির উপর বাগানটি আমি বার্ষিক চুক্তিতে নেয়। তিনি আরো বলেন বাগান সংলগ্ন স্থানে আমি এরপর সোয়া দুই বিঘা জমিক্রয় করি। পূর্বের মালিক থেকে বরই বাগানটি ক্রয় করেছি ১লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। আর ১০ বিঘা জমি বার্ষিক ইজারা দিতে হয়েছে ১লাখ টাকার উপর। এই বাগানে মোট ৫০০টি বরই গাছের মধ্যে ভারত সুন্দরী, বল সুন্দরী, কাষ্মীরি ও টক কূল বরই রয়েছে। এ ছাড়া বাগানে আছে আম,মাল্টা, পেয়ারা, ড্রাগন সহ নানা জাতের ফল গাছ। পূর্বের মালিক চুয়াডাঙ্গা থেকে এসব বরই চারা ক্রয় করে রোপন করে ছিল। কৃষি অফিসের লোকজনরা সার্বিকভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছে। বর্তমানে বাগানে বরই ফলন বেশ ভালো আছে। বিক্রিতে দর ভালো পাওয়া যাচ্ছে।
গত এক মাস ধরে বরই বিক্রি করছি। এই ফলটি অতি মিষ্টি, খেতে আপেলের মতো সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা ভালো রয়েছে। দৈনিক ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার উপর বরই বিক্রি করা হয়। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় স্থানীয়দের পাশিাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে বাগান থেকে বরই ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ মৌসুমে ৭ লাখ টাকার উপর বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছি। এছাড়া বাগানে মাল্টা, ড্রাগন, আম পেয়ারাসহ নানা জাতের সবজি রয়েছে। ওইসব বিক্রি করে দেড় লাখ টাকার উপর আয় হবে বলে আশা করছেন।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মাসুদ রানা বলেন, এ উপজেলায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে বরই চাষ করে বেশ সফলতা পেয়েছেন। এরমধ্যে জহিরুল ইসলাম রয়েছে। তিনি কুল বরই চাষ করে এলাকায় চমক কৃষ্টি করেছেন। বেকার ও শিক্ষিত যুবকরা কুল চাষে এগিয়ে এলে একদিকে বেকারত্ব দূর হবে, অপরদিকে উপজেলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও আসবে। তিনি কুল চাষে আগ্রহীদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

