সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ বেশ কয়েকটি দেশের ওপর নতুন প্রতিশোধমূলক শুল্ক (reciprocal tariffs) আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর আওতায় নির্দিষ্ট দেশগুলোর পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন কর আরোপ করবে, যা ওই দেশগুলো আমেরিকান পণ্যের ওপর যে হারে শুল্ক আরোপ করে তার অর্ধেক পরিমাণ হবে।
হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প একাধিক চার্ট উপস্থাপন করেন, যেখানে বিস্তারিতভাবে প্রতিটি দেশের ওপর নির্ধারিত নতুন শুল্কহার দেখানো হয়।

শুল্ক আরোপের কারণ ব্যাখ্যা করলেন ট্রাম্প
ট্রাম্প বলেন,
“আমরা তাদের ওপর প্রায় অর্ধেক হারে শুল্ক আরোপ করব, যা তারা আমাদের ওপর আরোপ করে আসছে। পুরোপুরি সমান হারে শুল্ক আরোপ করা যেত, কিন্তু আমরা অনেক দেশের ওপর কঠোর হতে চাইনি।”
তিনি আরও বলেন,
“আমাদের দীর্ঘদিন ধরে অন্য দেশগুলো শোষণ করেছে। তারা আমাদের পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক বসায়, কিন্তু আমরা তাদের পণ্যের জন্য শূন্য বা খুব সামান্য কর নিই। এটি আর চলতে পারে না। আমেরিকান ব্যবসা এবং শিল্পকে রক্ষা করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।”
কম্বোডিয়ার পণ্যে সর্বোচ্চ ৪৯% শুল্ক

হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত চার্ট অনুসারে, কম্বোডিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৪৯% শুল্ক আরোপ করা হবে। কম্বোডিয়ার পরই রয়েছে ভিয়েতনাম, ভারত ও চীনের মতো দেশ, যাদের পণ্য আমদানির ওপরও উচ্চ শুল্ক বসানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম্বোডিয়ার ওপর সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে—
- বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা: যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কম্বোডিয়া মার্কিন পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক বসায়।
- মানবাধিকার ও শ্রমনীতি: কম্বোডিয়ায় শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির পরিপন্থী।
- চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক: কম্বোডিয়ার অর্থনীতি চীনের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, যা মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন এ শুল্কনীতি বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
- বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা: যেসব দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসাতে পারে, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
- ভোক্তা মূল্য বৃদ্ধি: আমদানি পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক বসলে আমেরিকান ক্রেতাদের জন্য এসব পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।
- বিনিয়োগ সংকট: অনিশ্চিত বাজার পরিস্থিতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন,
“এটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম ধাপ। যদি অন্য দেশগুলো তাদের শুল্ক হার কমিয়ে আনে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও তার নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে যদি তারা আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিচার চালিয়ে যায়, তাহলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।”
এখন দেখার বিষয়, এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হয় এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনে।
