ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বৈষম্যমূলক বাণিজ্যের শিকার, বিশেষ করে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর কারণে। তার বক্তব্য মূলত বাণিজ্য ঘাটতি, শুল্ক বৈষম্য এবং মুদ্রা হেরফেরের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু আসলেই কি তার দাবি সঠিক? এর উত্তর সহজ নয়, বরং বেশ জটিল।
ট্রাম্পের দাবির পক্ষে যুক্তি:
- বাণিজ্য ঘাটতি (Trade Deficit):
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে চীনের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে আমদানি বেশি করে এবং রপ্তানি কম, যার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়। যদিও অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি সবসময় ক্ষতিকর নয়, তবে ট্রাম্প এটিকে অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতার প্রমাণ হিসেবে দেখান। - শুল্ক বৈষম্য (Tariff Disparities):
অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় উচ্চ শুল্ক আরোপ করে। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমেরিকান গাড়ির ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় গাড়ির ওপর তুলনামূলক কম শুল্ক রাখত। - চীনের বাণিজ্য অনিয়ম:
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই চীনকে প্রযুক্তি চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। চীন জোরপূর্বক প্রযুক্তি স্থানান্তর, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিকে ভর্তুকি প্রদান এবং আমদানি বাধাগ্রস্ত করার মতো কৌশল প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে আমেরিকান কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে।
ট্রাম্পের দাবির বিপক্ষে যুক্তি:
- বাজারনীতি ও স্বেচ্ছামূলক বাণিজ্য:
শুধু বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেই তা অন্যায্য বাণিজ্যের প্রমাণ নয়। যুক্তরাষ্ট্র বেশি আমদানি করে কারণ তার অর্থনীতি শক্তিশালী এবং ভোক্তারা তুলনামূলকভাবে কম দামে পণ্য পছন্দ করে। - শুল্ক নীতি আমেরিকারই ক্ষতি করে:
ট্রাম্প আমদানিকৃত পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করায় আমেরিকান কোম্পানি ও ভোক্তাদের জন্য ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে চীনের ওপর শুল্ক বসানো হলেও এর ফলে অনেক আমেরিকান কোম্পানির উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি করেছে। - বৈশ্বিক বাণিজ্যের সুফল উপেক্ষা:
যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে অনেক সুবিধা পেয়ে থাকে, যেমন সস্তায় আমদানি, রপ্তানি খাতের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ। ট্রাম্পের কঠোর নীতির কারণে এসব সুবিধা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
সিদ্ধান্ত:
ট্রাম্পের কিছু উদ্বেগ যৌক্তিক ছিল, বিশেষ করে চীনের বাণিজ্য অনিয়মের বিষয়ে। তবে তার কঠোর নীতি, যেমন শুল্ক যুদ্ধ ও বাণিজ্য বাধা সৃষ্টি, প্রায়শই উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এতে আমেরিকান ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাণিজ্য একটি জটিল বিষয়, এবং “ন্যায্যতা” নির্ভর করে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখা হচ্ছে তার ওপর।