মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ করেই তেহরানকে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, যদিও এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি এই হুমকি থেকে পিছু হটেছেন এবং ইরানকে আলোচনার জন্য রাজি করতে চেষ্টা করছেন।
ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে ইরানের দৃঢ় প্রতিক্রিয়া এবং পাল্টা হুমকির ভূমিকা ছিল। ইরান যখন ট্রাম্পের বোমা হামলার হুমকিকে উপেক্ষা করে তাদের অবস্থান আরো দৃঢ় করে তোলে, তখন ট্রাম্প বুঝতে পারেন যে, ইরানের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, “মার্কিন হুমকির কাছে ইরান কখনো মাথা নত করবে না”, এবং দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তারা প্রস্তুত।
এএফপি বার্তা সংস্থার খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ইরান আগে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কথা বলতো, কিন্তু এখন তারা সরাসরি আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি সরাসরি সংলাপই সবচেয়ে কার্যকর।”
এর আগে, মার্চ মাসে ট্রাম্প ইরানকে একটি চিঠি পাঠিয়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবে তেহরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তারপর ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি তারা নতুন একটি চুক্তিতে না আসে, তাহলে বোমা হামলা চালানো হবে। ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং পাল্টা হুমকি দিয়ে জানিয়েছিল যে, তারা আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।
এই পরিস্থিতিতে, ট্রাম্পের কাছে মনে হতে পারে যে, আগ্রাসী বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দেবে না, বরং কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান বেশি কার্যকর হতে পারে। তাই, তিনি ইরানকে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দেন, যা তার আগের অবস্থানের তুলনায় অনেক নমনীয় এবং শিথিল।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, “মার্কিন হুমকির কাছে ইরান কখনো মাথা নত করবে না। হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।” ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আরও জানিয়েছেন যে, তেহরান সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে কূটনৈতিক বার্তা বিনিময়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়।
এছাড়াও, ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রস্তুতির কারণে ট্রাম্প যে তার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনলেন, তা এক ধরনের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টা। ইরানকে টানতে এবং সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দেয়া, বিশ্ব কূটনীতিতে তার নীতির একটি পরিবর্তন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বে ইরান ও ছয়টি বিশ্ব শক্তির মধ্যে একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি সই হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প একপাক্ষিকভাবে ওই চুক্তি বাতিল করে দেন, যার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তবে বর্তমানে তাঁর অবস্থান কিছুটা নমনীয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশ্ব কূটনীতির চোখ এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন সংলাপের দিকে।