রাশিয়ার সাথে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিনিময়ে দেশটির খনিজ সম্পদের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ চায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন সূত্রে জানা গেছে, কিয়েভের জন্য সামরিক সহায়তা প্যাকেজ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা ইউক্রেনের মূল্যবান খনিজ সম্পদের ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন।
ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ দেশ, যেখানে লিথিয়াম, টাইটানিয়ামসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রয়েছে, যা আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সাথে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কিয়েভের প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তবে, এই সহায়তার শর্ত হিসেবে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের ওপর পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়াশিংটনের শর্ত ও কিয়েভের প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউসের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সরকার ইউক্রেনের খনিজ খাতের উন্নয়ন ও শোষণের জন্য তাদের কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা চায়। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যাবশ্যকীয় খনিজগুলোর মজুদ ও উত্তোলনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।
তবে, কিয়েভের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের কৌশলগত খনিজ সম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এর ফলে ইউক্রেনের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, কারণ দেশটি একদিকে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধরত, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা করতে হচ্ছে।
যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেওয়া হয়, তবে এটি ইউক্রেনের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে এবং দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার ওপর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।