মঙ্গলবার সকালটা চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বিমানবন্দর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটু অন্যরকম হয়ে উঠেছিল। সেখানে ৫ হাজার ৫৭৫টি পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য পরিবারের নারীপ্রধানদের ক্ষমতায়ন। তিনি জোর দিয়ে বললেন, যদি পরিবারের নারীদের সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি না করা যায়, তাহলে দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এই চিন্তা থেকেই এই কার্ড চালু করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের আয়োজনের মধ্যে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে পাঁচজন নারীকে সরাসরি কার্ড তুলে দেন মন্ত্রী। কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা পাবে।
মন্ত্রী আরও জানান, সাধারণত দেশের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অনেক বছর সময় লাগে। কিন্তু সঠিক নেতৃত্ব ও সদিচ্ছা থাকলে অল্প সময়েও তা সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প তারই উদাহরণ। তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা নয়, নারীদের ক্ষমতায়ন এবং পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেও কাজ করবে।
ধাপে ধাপে আরও মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। প্রথমে হতদরিদ্র, পরে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ অন্তর্ভুক্ত হবেন। বিশেষ করে কার্ড পাওয়ার জন্য কারও আবেদন করতে হবে না; সরকার নিজ উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ করে পরিবারগুলোকে নির্বাচন করেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য ফার্মারস কার্ড চালু হয়েছে। দরিদ্র কৃষকদের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণও মওকুফ করা হয়েছে, যাতে তারা নতুনভাবে কৃষিকাজ শুরু করতে পারেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। এছাড়া বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু ও নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুধু অর্থ সহায়তা নয়, নারীদের ক্ষমতায়ন এবং দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে শুরু হলো।

