বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট কেবল তেলের দাম বাড়ায়নি, বরং এটি উন্মোচিত করেছে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার এক চরম ভঙ্গুরতা। হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্বের তেলের এক-পঞ্চমাংশের ধমনি, এখন এক ভূ-রাজনৈতিক মাইনফিল্ডে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর চেয়েও বড় আতঙ্ক হলো—এই পথটি বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সার এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য পরিবহনের প্রধান করিডর।
নিবন্ধে উঠে এসেছে বাংলাদেশের এক বাস্তব চিত্র। ক্রুড অয়েলের অভাবে দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড গত রোববার বন্ধ হয়ে গেছে। রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন আর এলএনজি সংকটে সার কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, হরমুজ প্রণালিতে সামান্য অস্থিরতাও কীভাবে আমাদের ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) আশঙ্কা অনুযায়ী, গ্রীষ্মের মধ্যে এই সংকটের সমাধান না হলে বিশ্বে নতুন করে সাড়ে চার কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় পড়বে।
সার সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কার কৃষি ব্যবস্থা যেভাবে ধসে পড়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এখন মিসর, সুদান এমনকি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কৃষিপ্রধান দেশগুলোতেও ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি না থাকায় জাপান ও ভারতের মতো দেশগুলো পরিবেশের ক্ষতি করে আবারও কয়লার দিকে ঝুঁকছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় ‘কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তি’র আদলে কমফোর্ট এরো একটি ‘হরমুজ ট্রানজিট ইনিশিয়েটিভ’-এর প্রস্তাব দিয়েছেন। এটি কোনো শান্তিচুক্তি হবে না, বরং যুদ্ধের মাঝেই জীবন রক্ষাকারী সার ও খাদ্য পরিবহনের একটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি।
জাহাজ চলাচল ও নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণে একটি বিশেষজ্ঞ দল থাকবে। ইরান বা ইসরায়েল—কোনো পক্ষই যেন খাদ্য ও সারকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাতে বিমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকি নিতে রাজি হয়।
নিবন্ধটির মূল বার্তা হলো—পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি হয়তো আপাতত অসম্ভব, কিন্তু সংযম সম্ভব। হরমুজ প্রণালিকে সচল রাখা এখন আর কেবল ব্যবসার বিষয় নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের টিকে থাকার লড়াই। বিশ্বের স্থিতিশীলতা এখন নির্ভর করছে এই সরু জলপথটিতে মানবিক করিডর গড়ে তোলার ওপর।

