নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
চৈত্র-বৈশাখের তাপপ্রবাহে পানিশূন্যতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় বলে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের কোষের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি অপরিহার্য, কারণ দেহকোষের গঠন ও কার্যক্রম পানির ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানিশূন্যতা বা অতিরিক্ত পানি গ্রহণ—দুটিই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। পানির ঘাটতি হলে প্রথমে হালকা কিছু উপসর্গ দেখা দেয়, যা অনেকেই গুরুত্ব দেন না। এর মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফেটে যাওয়া, তীব্র পিপাসা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি ও মনোযোগে ঘাটতি। এসব সমস্যা সময়মতো শনাক্ত না হলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
পানিশূন্যতার কারণে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং প্রস্রাবের পরিমাণ হ্রাস পায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রস্রাব গাঢ় রঙের হয়ে যায় এবং শরীর থেকে বর্জ্য ঠিকভাবে বের হতে পারে না। জটিল অবস্থায় প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এছাড়া মূত্রতন্ত্রে সংক্রমণ এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, পানিশূন্যতা ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট করে, যা হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে রক্তচাপ কমে যাওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং গুরুতর ক্ষেত্রে শারীরিক দুর্বলতা বা অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
পরিপাকতন্ত্রেও পানির ঘাটতির প্রভাব পড়ে। হজমে সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিতে পারে। গুরুতর পানিশূন্যতায় মস্তিষ্কেও প্রভাব পড়ে, ফলে বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ বা অজ্ঞান হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, তেষ্টা লাগার অপেক্ষা না করে নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি পানির পাশাপাশি ফল, সবজি এবং তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ বাড়াতে হবে। ডাবের পানি ও পাতলা ঝোলজাতীয় খাবার উপকারী হলেও চা-কফি ও অ্যালকোহল সীমিত রাখতে বলা হয়েছে।
এছাড়া নিরাপদ পানি গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফুটানো বা ফিল্টার করা পানি পান করা উচিত এবং দীর্ঘসময় ধরে পানি ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, প্রস্রাবের রং ও পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করে পানিশূন্যতার অবস্থা বোঝা সম্ভব। হালকা খড়ের মতো রঙের প্রস্রাব স্বাভাবিক, কিন্তু গাঢ় রঙ বা পরিমাণ কমে গেলে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ঘামের ক্ষেত্রে ওরস্যালাইন বা ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানীয় গ্রহণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

