নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট:
প্রায়শই কিশোর বয়সে দেখা যায় ব্রণ, তবে সম্প্রতি প্রাপ্তবয়স্কদের (২৫–৫০ বছর) মধ্যেও ব্রণের সমস্যা বাড়ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি ‘অ্যাডাল্ট অ্যাকনি’ নামে পরিচিত। কর্মব্যস্ত জীবন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং পরিবেশ দূষণ প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণের ধরন ও ঝুঁকি
চোয়াল ও থুতনি: কিশোরদের ব্রণ সাধারণত কপাল ও নাকের টি-জোনে দেখা যায়, কিন্তু বড়দের ক্ষেত্রে চোয়াল, থুতনি এবং গলার আশপাশে বেশি দেখা যায়।
হরমোন পরিবর্তন: নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের ওঠাপড়ার কারণে ব্রণ বেশি হয়। পিরিয়ডের আগে, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজে সমস্যা বাড়তে পারে।
পিসিওএস আক্রান্তরা: পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে (PCOS) অ্যান্ড্রোজেন হরমোন বেড়ে ব্রণ হতে পারে।
মানসিক চাপ: স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল ত্বকের তেল গ্রন্থি সক্রিয় করে, যা বড় ব্রণ তৈরি করে।
ভুল প্রসাধনী ব্যবহার: তৈলাক্ত ত্বকের মানুষ ভারী মেকআপ বা অনুপযুক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করলে ব্রণ হতে পারে।
সতর্ক থাকার লক্ষণ
মুখে ব্রণের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত লোম বৃদ্ধি
হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি
পিরিয়ডের অনিয়ম
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রিনোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ ব্রণ শুধুমাত্র ত্বকের সমস্যা নয়, এটি হরমোনজনিত সমস্যার ইঙ্গিতও দিতে পারে।
ব্রণ রোধের উপায়
সঠিক পরিচ্ছন্নতা: দিনে দুইবার স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা বেনজাইল পারক্সাইডযুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার ও দুগ্ধজাত খাদ্য কমান, শাকসবজি ও ফল বেশি খান।
পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি: দিনে ৩–৪ লিটার পানি পান করুন এবং ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন।
হাত দিয়ে না ছোঁয়া: ব্রণ খোঁড়া বা ফাটা থেকে বিরত থাকুন।
নন-কমেডোজেনিক পণ্য ব্যবহার: সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চারাইজার কিনার সময় নিশ্চিত করুন যে তা রোমকূপ বন্ধ করে না।
ব্রণের সমস্যা প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

