ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এখন আমাদের হাতে। একদিকে যেমন হেভিওয়েট প্রার্থীদের জয়জয়কার, অন্যদিকে অনেক জনপ্রিয় মুখকে বরণ করে নিতে হয়েছে পরাজয়। আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে প্রধান দুই শক্তি বিএনপি ও জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বদলে গেছে অনেক সমীকরণ। এমনকি ভেঙে চুরমার হয়েছে আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য দুর্গগুলোও।
এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের আইকন এবং আলোচিত নেতাদের জয়জয়কার ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে বিজয়ী হয়েছেন রুমিন ফারহানা, নাহিদ ইসলাম, নুরুল হক নুর এবং ফজলুর রহমান। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ হাসনাত আবদুল্লাহ ও হান্নান মাসউদ নিজেদের আসনে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রত্যাশিতভাবেই জয় পেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
তবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা অনেক প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পাননি। ঢাকার বিভিন্ন আসনে লড়ে বিএনপি প্রার্থীদের কাছে হেরে গেছেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, তাসনিম জারা এবং মামুনুল হক। এমনকি পঞ্চগড়ে ব্যাপক আলোচনায় থাকা সারজিস আলমকেও পরাজয় বরণ করতে হয়েছে।
বড় চমক ছিল হেভিওয়েট নেতাদের হার। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী নির্বাচনে হেরে গেছেন। পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ফয়জুল করীমও। এছাড়াও জামায়াতের টিকিটে নির্বাচন করে সাড়া জাগানো কৃষ্ণ নন্দী হেরে গেছেন বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খানের কাছে।
এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় খবরটি এসেছে গোপালগঞ্জ থেকে। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের ‘নিরাপদ দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই এবার জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় এই প্রথম দলটির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে ধানের শীষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হলো।
যদিও নির্বাচন শেষ হয়েছে, তবে বিতর্কের অবসান হয়নি। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একে অপরের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল এবং জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে। অনেক জায়গায় দুই দলের কর্মীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে।

