শাহাদাৎ বাবু, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধে রিজেন্ট বোর্ড সভা স্থগিতের দাবিতে লিখিত বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
বৃহস্পতিবার ( ৯ মার্চ ) দুপুরে সাদা দলের সভাপতি ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম , সাধারণ সম্পাদক ড. মো: জাহাঙ্গীর সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিবৃতিতে যা উল্লেখ করা হয় তার হুবহু তুলে ধরা হলো।
“নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগে নজিরবিহীন রাজনীতিকরণ,নগ্ন স্বেচ্ছাচারিতা এবং দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে ‘সাদা দল’ দীর্ঘ সময় ধরে সোচ্চার রয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক অনুসন্ধান চলমান থাকা সত্ত্বেও তিনি পুনরায় বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
দেশের মূলধারার সকল সংবাদ মাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় উপাচার্যের এসব প্রশাসনিক অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের খবর বর্তমানে বহুল আলোচিত। এই পরিস্থিতি ও জনমনে তৈরি হওয়া সংক্ষোভকে তোয়াক্কা না করে, উপাচার্য ও তার অনুগত প্রশাসন দিয়ে বিতর্কিত ও অবৈধ নিয়োগগুলোকে বৈধতা দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নিয়োগ বোর্ডকে আহ্বান করেছেন
এবং আগামী ১১ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ রিজেন্ট বোর্ডের সভা আহ্বান করেছেন। আমরা মনে করি, চলমান তদন্ত প্ৰক্ৰিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আনীত অভিযোগসমূহ নিষ্পত্তি না করে বিভিন্ন বোর্ড সম্পন্ন করা এবং রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে
এসব নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে সম্পূর্ণ অনৈতিক ও আইন পরিপন্থী।
এমতাবস্থায়, নোবিপ্রবি সাদাদল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আগামী ১১ এপ্রিলের রিজেন্ট বোর্ড সভা এবং সকল প্রকার বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।
আমরা রিজেন্ট বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সকল সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে এবং নৈতিক ও আদর্শিক জায়গা থেকে অনুষ্ঠিতব্য সভায় অংশগ্রহণে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং মেধার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টার আশু হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীলতা আনয়নে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের এই প্রতিবাদ উপেক্ষা করে যদি কোনো প্রকার নিয়োগ বোর্ড কিংবা রিজেন্ট বোর্ডের মতো সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তবে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই সম্পূর্ণরূপে দায়ী থাকবে।

