মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার ভেতর অবৈধভাবে প্রবেশ করে শুটিং করার সময় গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিমকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে শাহ আলী থানা পুলিশ তাঁকে চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় জাতীয় চিড়িয়াখানা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ছিল। এই সুযোগে ফাহিম ও তাঁর একটি দল চিড়িয়াখানার ভেতরে প্রবেশ করে ভিডিও চিত্র ধারণ করছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে চিড়িয়াখানার সামনে একদল শিক্ষার্থী ও উত্তেজিত জনতা জড়ো হয়ে তাঁকে ঘিরে ধরে। জুলাই আন্দোলনে ফাহিমের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে আগে থেকেই ক্ষোভ বিরাজ করছিল সাধারণ মানুষের মাঝে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
অনুমতি ছাড়া শুটিংয়ের বিষয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন:
“চিড়িয়াখানায় নিয়ম মেনে শুটিং করার সুযোগ থাকলেও আজকে আমরা কাউকে কোনো অনুমতি দিইনি। আজ সারাদিন চিড়িয়াখানা বন্ধ। শুধুমাত্র খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারের একটি গাড়ি ছাড়া আর কোনো যান চলাচলের অনুমতি ছিল না। তারা কীভাবে ভেতরে ঢুকল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”
পরিচালক আরও জানান, আর এস ফাহিমকে ভেতরে প্রবেশ করাতে চিড়িয়াখানার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সহযোগিতা করেছেন কি না, তা তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহ আলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, জনরোষ থেকে বাঁচাতে আপাতত তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে জুলাই আন্দোলনের সময় তাঁর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বা আজকের অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

