পাখির ছানার মতো নিজের সন্তানদের আগলে রাখতেন মোহাম্মদ নবি। তার তিন ছেলের জীবন ছিল সুশৃঙ্খল—লেখাপড়া, ক্রিকেট এবং পরিবারের বাইরের জগৎ সীমিত। ক্রিকেটের অভিজ্ঞ নবি নিজের ছেলেদের নিয়ে গল্প করতেন, আর সেই গল্পের পাশে বসে হাসান ইসাখিল তা শুনতেন বন্ধুর মতো।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে রাতের আড্ডা জমে উঠত জাফরানমিশ্রিত চা পান করতে করতে। নবি ও হাসান এমনভাবে কথা বলতেন যে, অচেনা লোকদের জন্য তাদের সম্পর্ক শুধু বন্ধুদের মতোই মনে হতো।
রোববার নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে বিপিএলে অভিষেকের পর সংবাদ সম্মেলনে হাসান স্বীকার করেন, বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক একেবারেই বন্ধুর মতো।
বিপিএলের আগে হাসানের বিদেশি লিগে খেলতে বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল না। আফগানিস্তানে প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট এ ক্রিকেট, টি২০ লিগে খেলেছেন। গত বছর নেপাল প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগ পান। ছেলেকে ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন নবি, এমনকি নিজেই ছেলের ক্রিকেট কোচ। তবে পারিবারিক একজন ট্রেনারও ছিলেন—পাকিস্তানের নিয়াজ উল ইসলাম, যিনি শারজাহয় ক্রিকেট কোচিং করান এবং নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ট্রেনারও। জাতীয় দলের সিরিজে আমিরাতে যাওয়ার আগে হাসানকে নিয়াজের তত্ত্বাবধানে রেখে নির্ভার ছিলেন নবি।
বিপিএলের শুরুতে হাসান দলে থাকলেও বেশিরভাগ ম্যাচে তিনি দ্বাদশ খেলোয়াড় হতেন। বদলি ফিল্ডার হতে বা পানি নিয়ে মাঠে যাওয়াও তিনি উপভোগ করতেন। আইএল টি২০ শেষ করে নবি বিপিএলে যোগ দেওয়ার পরও দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে থাকতেই হয়েছে হাসানকে। তবে নবি ছেলের সঙ্গে মাঠে উপস্থিত থাকতেন, সিলেটের আউটারে ব্যাটিং প্র্যাকটিস করাতেন এবং বড় শট খেলার কৌশল শিখাতেন।
নবি টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন, জাতীয় দলের খেলায় বাবা ও ছেলে একসাথে খেলুক। পুরো দলই সমর্থন দিয়েছিল। ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচে হাসানকে ক্যাপ পরিয়ে দেন নবি নিজেই। অভিষেকেই সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছেছিলেন ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার—৯২ রান করেছেন। স্বপ্ন পূরণের সেই ম্যাচে আবেগে আপ্লুত ছিলেন নবি। মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি সাধারণত থাকেন না, তবু সানন্দে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
