গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। এরই প্রেক্ষাপটে রান্নার বিকল্প সরঞ্জামের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে ক্রেতাদের। চলমান বাণিজ্য মেলায় সোলাস ব্র্যান্ডের স্টলে ছাড়ে মিলছে ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা। এক মুখের চুলার দাম ২ হাজার ৮৮০ টাকা থেকে শুরু করে তিন মুখের চুলা পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। পাশাপাশি এক, দুই ও তিন মুখের গ্যাস চুলার দাম যথাক্রমে ২ হাজার ৬১০ টাকা, ২ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার ৫৮০ টাকা এবং ৭ হাজার ৪৫০ টাকা।
বিদেশি স্টলের মধ্যে তুর্কিস্তানের দোকানটি আলোকবাতির জন্য বিশেষ নজর কাড়ছে। এখানে ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত দামের বাতি পাওয়া যাচ্ছে। ক্রিস্টাল প্লেটের সাত পিসের সেটের দাম ৬ হাজার টাকা। কাচ ও কাঠের ফ্রেমের ট্রে মিলছে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকায়। সিরামিকের তৈরি বাটি, শোপিস, ফুলদানি ও দেয়ালঘড়ির দাম ৩ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা।
ইস্তাম্বুল ও কাশ্মীরি কার্পেটের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে সিল্ক, উল ও সিনথেটিক কার্পেট। প্রতি বর্গফুট কার্পেটের দাম ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। বড় আকারের কার্পেটের দাম উঠছে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।
ভারতীয় ও পাকিস্তানি জুতার দোকানগুলোতে নাগরা, চটি, চপ্পল ও স্যান্ডেল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। শিশুদের নাগরা জুতার দাম ৫০০ টাকা। ভারতীয় শীতপোশাকের দোকানে কাশ্মীরি শালের দাম ২ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। কম্ফোর্টার পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়।
মেলায় পুরুষদের পোশাকের মধ্যে ব্লেজার ও কোটির চাহিদা বেশি। ব্লেজারের দাম শুরু ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে, কোটির দাম ১ হাজার ২০০ টাকা। নারীদের জন্য থ্রি–পিস পাওয়া যাচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির দাম ৭৫০ টাকা থেকে শুরু করে জামদানির দাম ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

শিশুদের বিনোদন ও পণ্যের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈচিত্র্য। দুরন্ত সাইকেল স্টলে শিশুদের সাইকেল বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকায়। বড়দের সাইকেলের দাম ১৪ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা। ইউরোপিয়ান প্যাডেল অ্যাসিস্ট ইলেকট্রিক সাইকেলের মেলা মূল্য ৫৫ হাজার টাকা।
আরএফএলের স্টলে শিশুদের খেলনাসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার টাকা থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। গৃহস্থালি পণ্যের মধ্যে অ্যাক্রিলিক ফাইবারের তৈরি বিভিন্ন রঙিন তৈজসপত্র ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে।
‘বন্দীদের উৎপাদিত পণ্য কিনুন, বন্দী পুনর্বাসনে সহায়তা করুন’—এই স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশ জেল কারা পণ্যের স্টলে দেশের ২৮টি কারাগারের বন্দীদের তৈরি ৪০০–এর বেশি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের স্টলেও বিভিন্ন স্মারক ও প্রকাশনা বিক্রি হচ্ছে, যার আয় যাবে পুনর্বাসন কার্যক্রমে।
মেলায় শিশুদের জন্য রয়েছে শিশুপার্ক। প্রতিটি রাইডের টিকিটের মূল্য শুরু ১০০ টাকা থেকে। এছাড়া তুরস্ক থেকে আসা ছয়জন শেফ পরিচালিত টার্কিশ রেস্তোরাঁয় পাওয়া যাচ্ছে কাবাবসহ নানা খাবার, যার দাম ২০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা এবং শুক্র ও শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা, শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। বিআরটিসির দোতলা শাটল বাসে বিশেষ সার্ভিস চালু রয়েছে।

