আমাদের আশপাশে অনেক বয়স্ক মানুষ আছেন, যাঁরা হাড়ের বা গিঁটের ব্যথা দেখে বলে দিতে পারেন, আজ বৃষ্টি হবে কি না। এটি অনেকের কাছে নিছক অনুমান মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের শরীরের জয়েন্টের ব্যথার সত্যিই গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের আর্থ্রাইটিস বা বাতের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়টি বেশ কষ্টদায়ক।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ব্যথা বাড়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
বায়ুমণ্ডলের চাপের পরিবর্তন: বৃষ্টির আগে বায়ুমণ্ডলের চাপ কমে যায়। চাপ কমে গেলে শরীরের টিস্যু সামান্য প্রসারিত হয় এবং হাড়ের জয়েন্টের সংবেদনশীল স্নায়ুগুলোর ওপর চাপ পড়ে, যা ব্যথা বাড়ায়।
সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের ঘনত্ব বৃদ্ধি: ঠান্ডা আবহাওয়ায় জয়েন্টের ভেতরের পিচ্ছিল রস ঘন হয়ে যায়। ফলে জয়েন্ট আগের মতো সহজে নড়াচড়া করতে পারে না এবং ব্যথা হয়।
পেশি ও লিগামেন্টের সংকোচন: ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীর তাপ ধরে রাখার জন্য পেশি ও লিগামেন্ট সংকুচিত হয়, যা ব্যথার মাত্রা বাড়ায়।
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: মেঘলা বা শীতল দিনে মানুষ সাধারণত ঘরের ভিতরে থাকে। কম নড়াচড়া জয়েন্টকে আরও শক্ত করে এবং ব্যথা বাড়ায়।
ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে করণীয়:
উষ্ণ থাকুন: পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরুন, ব্যথার জায়গায় হিটিং প্যাড বা গরম জলের সেঁক দিন।
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন: ঘরের ভিতরেই স্ট্রেচিং বা হালকা ব্যায়াম করলে জয়েন্ট সচল থাকে এবং ব্যথা কম হয়।
হাইড্রেশন বজায় রাখুন: পর্যাপ্ত পানি পান করলে পেশি নমনীয় থাকে।
সুষম খাদ্য: ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার, যেমন সামুদ্রিক মাছ, প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
ডাক্তাররা মনে করিয়ে দেন, যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা জয়েন্ট লাল ও ফোলা হয়ে যায়, তবে দেরি না করে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


