নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট:
ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দিয়ে পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার পরও অনেকের ওজন কমছে না। বরং উল্টো বাড়ছে মেদ। এমন পরিস্থিতিতে খাবারের পাশাপাশি হরমোনজনিত সমস্যার দিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বিশাল খুরানা বলেন, সঠিক ডায়েট অনুসরণ করার পরও ওজন না কমা বিস্ময়কর হলেও এর পেছনে কর্টিসল হরমোনের উচ্চমাত্রা দায়ী হতে পারে। কর্টিসলকে ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলা হয়, যা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।
তিনি জানান, শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ, মেজাজের পরিবর্তন, ঘুমের সমস্যা ও অতিরিক্ত মেদ জমার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কর্টিসল বাড়ানোর অন্যতম কারণ। কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে হজম প্রক্রিয়া ভালো হয় এবং স্বাস্থ্যকর ডায়েট কার্যকরভাবে কাজ করতে শুরু করে।
বিশাল খুরানা আরও বলেন, কর্টিসল হরমোন শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও এর মাত্রা বেড়ে গেলে সমস্যা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন বেশি থাকলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে মুম্বাইয়ের পুষ্টিবিদ অঞ্জলি জানান, দৈনন্দিন অভ্যাস ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অনেক সময় অজান্তেই কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দুঃসংবাদ পড়া, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত শরীরচর্চা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা— এসব বিষয় কর্টিসল বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপনে সংযম আনলে কর্টিসলের মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় সঠিক পরিবর্তন আনা জরুরি।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সঠিক সমন্বয় থাকা দরকার। প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি, অতিরিক্ত ক্যাফিন ও অ্যালকোহল যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক কিছু খাবার—
ওটস, কুইনোয়া, ব্রাউন রাইস, ডাল, ছোলা ও অন্যান্য শস্যজাত খাবার ফাইবারসমৃদ্ধ, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
টাটকা সবজি ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
ডাল, রাজমা, কাবলি ছোলা, পনির, ডিম ও মুরগির মাংসের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পেশির ক্ষয় রোধে সহায়ক।
আখরোট, পেস্তা, কাঠবাদাম ও বিভিন্ন বীজে থাকা আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ম্যাগনেশিয়াম মস্তিষ্ক ও হৃদ্স্বাস্থ্যের পাশাপাশি কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন কমাতে শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও সুষম জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


