সকালে প্রায় ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের একাধিক এলাকায় তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নরসিংদীর মাধবদী, যেখানে ভূমিকপনের মাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে প্রায় ৫.৭।
ভূমিকপন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীবাসী আতঙ্কে ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। এই দোলনে বিভিন্ন এলাকায় ভবন ক্ষতিগ্রস্তের খবর এসেছে।
আরমানিটোলা, কসাইটুলি এলাকায় একটি আট তলা ভবনের পলেস্তারার কিছু অংশ ভেঙে পড়ে।
একই ভবনের রেলিং ধসে পড়ায় তিন পথচারীর মৃত্যু ঘটে।
খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পাশের দোতলা ভবনে ইট পড়ে একজন আহত হন।
সুত্রাপুর এলাকায় একটি আট তলা ভবন হেলে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
কলাবাগানের আবেদখালী রোডে একটি সাত তলা ভবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে; তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বারিধারা ব্লক-এফ, রোড-৫-এর একটি বাড়িতে আগুন লাগার বিষয়টিও সামনে এসেছে; তবে এখনো স্পষ্ট নয়, আগুন ভূমিকপনের কারণে হয়েছিল কি না।
মুন্সীগঞ্জ, গজারিয়ার একটি বাড়িতেও আগুন লাগে, ফায়ার সার্ভিস দুই ইউনিট পাঠায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীতে ভূমিকপনের প্রভাব বেশি অনুভূত হয় কারণ উৎপত্তিস্থল ঢাকার কাছাকাছি এবং গভীরতা কম ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভূমিকপনের স্থায়ীত্ব প্রায় ২৬ সেকেন্ড ছিল।
অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) প্রাথমিকভাবে দোলনের মাত্রা ৫.৫ হিসেবে গণনা করেছে।
ভূমিকপনের পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবন তৈরি কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পুরনো বা অপরিকল্পিত নির্মাণে থাকা ভবনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য তৎকালীন পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী উঠেছে।
সরকারি ও দমকল বিভাগ ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও পুনরায় নিরাপদ করার কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ভবন মালিকদের নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গঠনমূলক পর্যালোচনায় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
নাগরিকদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে — ভূমিকপনের সময় “ড্রপ, কভার, হোল্ড অন” নীতিটি মেনে চলুন; ভবনগুলোর স্থায়ীত্ব পরীক্ষা করাতে ভাড়া বা নিজস্ব বাড়ির গঠনগত স্থিতির বিষয়ে সচেতন থাকুন।

