ফাদার্স ডে উপলক্ষে ছেলে সহজকে উদ্দেশ করে আবেগঘন এক চিঠি লিখেছেন অভিনেতা রাহুল। চিঠিতে তিনি নিজের জীবন, সংগ্রাম, ভালোবাসা এবং সন্তানের প্রতি মূল্যবোধের বার্তা তুলে ধরেছেন।
চিঠির শুরুতেই তিনি জানান, আগে কখনো ‘ফাদার্স ডে’ বা ‘মাদার্স ডে’ আলাদা করে উদযাপন করতেন না। তবে এখন এসব দিনকে তিনি সন্তানের কাছে আসার একটি অজুহাত হিসেবে দেখেন।
চিঠিতে তিনি তুলে ধরেন, কীভাবে খুব অল্প বয়সে অভিনয়জগতে কাজ করতে গিয়ে তার ও সন্তানের মায়ের পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। দুজনেই সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে কঠোর পরিশ্রম ও অপমান সহ্য করে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।
- ছেলের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন,
অর্থ ও ক্ষমতার ভিত্তিতে মানুষকে বিচার করা সবচেয়ে বড় অশিক্ষা। তাই জীবনে যেখানেই থাকুক, যেন প্রতিটি মানুষকে সম্মান করতে শেখে এটাই তার প্রত্যাশা।
সন্তানের জন্মের স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি জানান, সন্তান আসার খবর পেয়ে তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছিলেন। সন্তানের মা নিজের হাতে সবকিছু তৈরি করে লালন-পালন করেছেন, যা তার কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
চিঠির গুরুত্বপূর্ণ অংশে তিনি মায়ের ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলেন, সন্তানরা সাধারণত মায়ের ভালোবাসা অনুভব করলেও তার কষ্টগুলো দেখতে পায় না। তাই মায়ের প্রতি যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া তিনি ছেলেকে নিজের ভাষা বাংলা এবং তার সংস্কৃতি উত্তরাধিকার হিসেবে দিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
চিঠির শেষ অংশে উঠে আসে এক আবেগঘন মুহূর্ত। ছেলে একদিন তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, আমি এই ঘরে থাকতাম না, বাবা? এখন আর থাকি না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর তার কাছে সেদিনও ছিল না, আজও নেই এ কথা জানিয়ে সন্তানের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।
চিঠিটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই এটিকে একজন বাবার গভীর ভালোবাসা ও অনুভূতির প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।


