“রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের অধিকার কোনো করুণা বা দয়া নয়, এটি আমাদের জন্মগত পাওনা। পরিবার ও সমাজ আমাদের অবহেলা করলেও আমরাই দায়িত্ব নিয়ে মা-বাবার পাশে দাঁড়াই। তাই আমাদের প্রান্তিক ভাবার সুযোগ নেই।”
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও অধিকার বিষয়ক সম্মেলন’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন। দেশের ৩৩টি প্রান্তিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ইউএনএইডস (UNAIDS)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান বলেন, “বিদেশি অনুদান বা সাহায্য চিরকাল থাকবে না। নিজেদের টিকে থাকার জন্য আপনাদের নিজস্ব কৌশল ও ফান্ডিং মেকানিজম তৈরি করতে হবে। সংগঠনের ভেতরে সুশাসন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। মনে রাখবেন, পাঁচ আঙুল আলাদা যা করতে পারে না, মুষ্টিবদ্ধ হাত তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।”
আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, “আপনারা পরিবারের দায়িত্ব নিচ্ছেন, অথচ সেই সমাজই আপনাদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে। এই বৈষম্যের পরিবর্তন দরকার। এখন আর সেকেলে ব্লক-বাটিকের প্রশিক্ষণ নিয়ে লাভ নেই, বাজার বিশ্লেষণ করে আধুনিক কর্মমুখী শিক্ষা নিতে হবে। ভাতা কেবল টাকার অংক নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মর্যাদা।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, “যারা মাত্র ১০ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে জীবন সংগ্রামে নামে, তারা কখনো দুর্বল হতে পারে না। আমেরিকা বা উন্নত বিশ্বের সেনাবাহিনী ও গণমাধ্যমে এই জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশগ্রহণ রয়েছে। নিজেদের দক্ষতা বাড়ালে পৃথিবীর কোনো শক্তি আপনাদের দমাতে পারবে না।”

আমরাই পারি জোট’, ‘আশার আলো সোসাইটি’, ‘এসপিইডি’, ‘সুস্থ জীবন’ ও ‘লাইট হাউস’ আয়োজিত এই সম্মেলনে সহযোগিতা করে ‘ক্রিশ্চিয়ান এইড’ এবং অর্থায়ন করে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন’।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আশার আলো সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহজাহান, আশার আলোর প্রোগ্রাম ম্যানেজার সানোয়ার হোসেন এবং এস শ্রাবন্তী আহমেদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং শেষে ‘সম্ভব নাট্যদল’ একটি নাটক পরিবেশন করে।

