বাংলা লোকসংগীতের মহাতারকা ফরিদা পারভীনের মৃত্যুর খবরে শোকাহত হয়েছেন কিংবদন্তি শিল্পী ফেরদৌসী রহমান। প্রায় পাঁচ দশকের সম্পর্কের বোনতুল্য সহকর্মীকে হারিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানালেন, “আমাদের ছিল বড় বোন–ছোট বোনের সম্পর্ক। আজ ঘুম থেকে উঠেই শুনলাম, আর কোনো দিন সে ফিরবে না। যেন নিজের বোনকেই হারালাম।”
তিনি বলেন, আশির দশকের শুরুতে রোটারি ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে ফরিদার প্রথম পরিবেশনা সামনাসামনি দেখেছিলেন। “তখন ফরিদা ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে এসেছিল। আমি আশ্বাস দিয়েছিলাম—বাচ্চা আমার কাছে থাকবে। নিশ্চিন্ত মনে সে গান গেয়েছিল, আর সেই পারফরম্যান্স ছিল অপূর্ব।”
ফেরদৌসী রহমান জানান, যুগোস্লাভিয়া ও যুক্তরাজ্য সফরসহ নানা দেশে একসঙ্গে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁদের। ফরিদা ছিলেন ভীষণ ভেতো বাঙালি—বিদেশে গিয়েও ভাত না পেলে অস্থির হয়ে যেতেন। লন্ডনে সফরের সময়ও তিনি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ভাত খুঁজতেন, আর সেখানকার বাঙালি রেস্টুরেন্ট থেকেই তা মিটত।
শিল্পী হিসেবে ফরিদার বিশেষত্বের কথা স্মরণ করে ফেরদৌসী রহমান বলেন, “আমরা অনেক সময় মুখ থেকে গান করি, কিন্তু ফরিদার কণ্ঠে লালনের গান মনে হতো হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসছে। প্রতিটি লাইনের মর্মার্থ উপলব্ধি করে গাইত সে।”
তিনি আরও বলেন, শিল্পী ও মানুষ হিসেবে ফরিদার মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। জীবনযাপন যেমন ছিল সহজ-সরল, গানও তেমনি সরল ভাষায় মিষ্টি করে গাইতেন। সাজগোজ বা পরামর্শও বিনা দ্বিধায় মেনে নিতেন।
সবশেষে আবেগঘন কণ্ঠে ফেরদৌসী রহমান বলেন, “ফরিদার চলে যাওয়া আমার কাছে ছোট বোন হারানোর মতো। দেখা হলেই আমাকে পা ছুঁয়ে সালাম করত। সেই সম্পর্ক আর ফেরানো যাবে না।”

