ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে কোনো ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স নষ্ট, হারিয়ে যাওয়া বা জোরপূর্বক অপসারণের ঘটনা ঘটলে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রটির ভোট ফলাফলে অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে পুনঃভোটগ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জারি করা নির্বাচন কমিশনের এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তারা ভোটের দিন ও সময় উল্লেখ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবেন।
পরিপত্রে বলা হয়, ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কারণে ভোট স্থগিত হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হলে ভোট বন্ধ থাকবে। একইভাবে ব্যালট বাক্স এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে যাতে ফল নির্ধারণ অসম্ভব হয়, সেক্ষেত্রেও ভোট বন্ধ ঘোষণা করা হবে।
কোনো নির্বাচনি এলাকায় বন্ধ কেন্দ্রের ফল ছাড়া সামগ্রিক ফল নির্ধারণ সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পুনঃভোটের নির্দেশ দেবে কমিশন। পুনঃভোটের দিন ওই কেন্দ্রের সব ভোটার নতুন করে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি বা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না হলে নির্বাচন কমিশন যেকোনো পর্যায়ে ভোটগ্রহণসহ পুরো নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার ক্ষমতা রাখবে।
পরিপত্রে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ও নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটারদের ভোটদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকসহ পরিবেশবান্ধব ব্যানার এবং ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গণভোটের জন্য আলাদা ব্যানার টানানোর নির্দেশনার পাশাপাশি ভোটগণনা শেষে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ভোটগণনার বিবরণীর একটি কপি ডাকযোগে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে। এ জন্য পোস্ট অফিসগুলোকে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

